বড় দেবীর গোলকধাঁধায় টিটো দি [চতুর্থ পর্ব]

বড় দেবীর গোলকধাঁধায় টিটো দি [চতুর্থ পর্ব]
লেখা : সৌরভ সেন

আগে যা ঘটেছে

দত্তবাড়িতে রক্তে লেখা পরপর দুটো হুমকি চিঠি আর তারপরেই বাড়ির চাকর ছাদ থেকে পড়ে খুন। কোচবিহারের রাজার মহামূল্যবান গনেশ মূর্তি নাকি দত্তবাড়িতে আছে। রহস্যের সন্ধানে টিটোদি মালবাজারে।
চাকরের মৃত্যু খুন কিনা পুলিশ নিশ্চিত নয়, টিভি ফুটেজেও কাউকে দেখা যায়নি। পাড়ার লোক বলে বাড়ি বিক্রি নিয়ে দত্ত ভাইদের মতবিরোধ আছে। ল্যাব রিপোর্ট বলছে চিঠিগুলো মানুষের রক্ত দিয়ে লেখা নয়। দত্ত বাড়ির পারিবারিক ডায়েরিতে এক জটিল ধাঁধা। কেবল একটুই বোঝা যাচ্ছে যে গণেশ মূর্তি নিশ্চিত ভাবে ছিল। তারপর…

খুব সকালে অনেক কষ্টে ঘুম থেকে উঠলাম আমরা। সকাল সাড়ে সাতটায় তেনজিং নোরগে বাসস্ট্যান্ড থেকে কোচবিহারে যাওয়ার এসি বাস ছাড়ে। আমরা ঠিক সময় মতই বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে গেলাম। সিট রিজার্ভ করে বাসে উঠতেই বাস ছেড়ে দিল। আমি আর টিটোদি পাশাপাশি সিটে বসলাম। অনেকক্ষণ ধরে চেষ্টা করেও সৌম্যজিৎ চৌধুরীর সম্পর্কে বিশেষ কোনো তথ্য জোগাড় করতে পারলাম না। ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে ওনার ফোন নাম্বার এবং ইমেইল আইডি দেওয়া আছে। তা বাদে খুব বেশি ইনফর্মেশন, কাজে লাগার মত কিছু নেই। আমার হাত থেকে মোবাইলটা নিয়ে টিটোদি বলল, “একটু মাথা খাটাতে শেখ। সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে আঙ্গুল বাঁকাতে হয়, এটা জানিস তো।”
টিটোদি সৌম্যজিৎ চৌধুরীর মোবাইল নাম্বারটা প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি ওয়েবসাইট থেকে নিয়ে ফেসবুক সার্চে দিয়ে দিল। ওমা কি আশ্চর্য! একটা ফেসবুক প্রোফাইল খুঁজে পাওয়া গেল। কিন্তু নামটা আলাদা। পিকু নামে খোলা রয়েছে প্রোফাইলটা। কিন্তু সৌম্যজিৎ চৌধুরীর ছবিই দেওয়া রয়েছে। পিকু নিশ্চয়ই ওনার ডাকনাম হবে।
-“নে, এবার ভাল করে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ওর সব পোস্ট গুলো দেখ। ইন্টারেস্টিং কিছু পেলে আমাকে বলবি।”
সব পোস্ট ঘাটতে ঘাটতে প্রায় এক ঘন্টা পর একটা পোস্ট আমি টিটোদিকে দেখালাম।
-“এই পোস্টটা দেখো টিটো দি।”
-“কি আছে এতে?”
-“প্রায় বছরখানেক আগের পোস্ট এটা, ওনার একটা লেখা Indian Historical Review জার্নালে বের হয়েছিল। লেখার বিষয়বস্তু ওয়েস্ট বেঙ্গলের রাজ আমলের কিছু প্রত্নতাত্তিক নিদর্শন।”
-“বাহ ভেরি গুড। এবার তুই জার্নাল থেকে লেখাটা ডাউনলোড করে ফেল।”
-“তার জন্য তো সাবস্ক্রিপশন নিতে হবে।”
-“হ্যাঁ, তো? এটা কি এমন বড় ব্যাপার? নিয়ে নে সাবস্ক্রিপশন।”
-“ঠিক আছে করে নিচ্ছি।”
আধঘন্টা পর আর্টিক্‌ল্‌টা ডাউনলোড করে আমি টিটোদি কে দিলাম।
-“আমার খুব ঘুম পাচ্ছে, তুমি লেখাটা পড়ো।” মোবাইলটা হাতে দিয়ে আমি একটু চোখটা বন্ধ করে নিলাম। শ্রীকান্তদার দিকে তাকিয়ে দেখি উনিও বেশ ভালই ঘুমোচ্ছেন। আসলে বাসটার অর্ধেকেরও বেশি আসন ফাঁকা। তাই ঘুমানোর জায়গা পর্যাপ্ত। ভাড়াটা একটু বেশি বলে একটু কম লোকই যায়।
-“কিরে তোরা ওঠ। সবাই তো নেমে গেল গাড়িটা থেকে।” টিটোদির কথায় আমার আর শ্রীকান্তদার ঘুম ভাঙল। তারপর সবাই আস্তে আস্তে গাড়ি থেকে নামলাম। পাশেই একটা ছোট হোটেলে ব্রেকফাস্ট সেরে নিয়ে একটা টোটো ধরে আমরা তিনজন চলে গেলাম বড় দেবী বাড়িতে। বেলা এগারোটা হবে তখন। মন্দির তখনও খোলেনি। কিছুক্ষণ দাঁড়ানোর পর পুরোহিত মহাশয় এর দেখা পাওয়া গেল। টিটোদি পুরোহিত মহাশয় এর দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল, “নমস্কার পুরোহিত মহাশয়। আমরা শিলিগুড়ি থেকে এসেছি মন্দিরটা দেখব বলে। আমার সাথে ইনি আছেন, এনার নাম শ্রীকান্ত সান্যাল। উনি একজন লেখক, এই মন্দির নিয়ে লিখতে চান। তাই আপনি যদি কিছু তথ্য দিয়ে আমাদের সাহায্য করতেন খুব ভালো হতো।”
-“বেশ তো, বলুন কি জানতে চান?” পুরোহিত মহাশয় বললেন।
-“বড় দেবীর পুজো প্রথম কোথায়, কবে শুরু হয় এইসব আর কি। বড় দেবীকে নিয়ে আরো কিছু যদি বলেন!”
-“ঠিক আছে, আপনারা একটু বসুন। আমি পুজোটা সেরে আসি।”
প্রায় আধঘন্টা পর পুরোহিত মশাই এসে আমাদের বলা শুরু করলেন।
-“বড় দেবী হ’ল দেবী দুর্গার এক বিশেষ রূপ। কোচবিহারের মহারাজা নর নারায়ণ ১৫৩৩ সালে এই পূজা শুরু করেছিলেন। বড় দেবীর চিত্র চেনা দুর্গা প্রতিমাগুলির থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। দেবী দুর্গার চার ছেলে ও মেয়ে এখানে অনুপস্থিত। জয়া এবং বিজয়া তাদের প্রতিস্থাপন করতে এখানে আছেন। একক সিংহের পরিবর্তে এখানে রয়েছে যৌথভাবে বাঘ এবং সিংহ। দেবীর কাছ থেকে আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য কয়েক দিন উপোস রেখেছিলেন মহারাজা নর নারায়ণ। উপোস করার সময় রাজা নর নারায়ণ স্বপ্নে দেবীকে দেখেছিলেন। পরে তিনি বড় দেবীর পূজা উপস্থাপন করেন এবং তাঁর বর্ণনা অনুসারে মাটির মূর্তি তৈরি করা হয়েছিল। এখনও অবধি সেই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রতিবছরই রাজার আদেশ অনুসারে প্রথম তৈরি মূর্তির মতোই একই রকম দেখতে মূর্তি তৈরি করা হয় এবং দুর্গা পূজা করা হয়। যুগ যুগ ধরে কোচবিহারের এটাই হয়ে আসছে। মূর্তির মতোই এখানকার পূজোর নিয়ম কানুন ও অন্যান্য দুর্গাপূজার থেকে একটু আলাদা।”
-“সেটা কি রকম, যদি একটু বলেন!” টিটোদি অনুরোধ করল।
-“বলছি তাহলে, শোনো সকলে মন দিয়ে।” বলে পুরোহিত মহাশয় আবার বলতে শুরু করলেন।
-“বড় দেবীর পূজা শেষ হয় মহানবমীতে। বিশাল আকৃতির এই মূর্তিটি টুকরো টুকরো করে কেটে যমুনা (লম্বা) দিঘিতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। রাজ আমলে মহারাজা নিজে হাতিতে বসে বিজয় দশমীর দিন যাত্রা-পূজা অনুষ্ঠানের সময় একটি খানজান পাখি কে মুক্ত করতেন। কথিত আছে কোচবিহারের মহারাজা পাখির উড়ান-পথ অনুসরণ করে নতুন অঞ্চল জয় করার জন্য প্রস্তুতি নিতেন। ১৯৬৯ সালে, শেষবারের জন্য কোনও খানজান পাখিকে মুক্ত করা হয়েছিল বিজয়া দশমীর দিনে। আপনারা আরো শুনে অবাক হবেন যে এখনো নরবলি প্রচলিত আছে বড় দেবীর পুজোতে।”
-“বলেন কি? নরবলি!” আমি প্রশ্নটা করলাম। আমরা তিনজনই খুব অবাক হয়ে গেলাম।
-“হ্যাঁ, নরবলি। তবে এখন আর সত্যিকারের মানুষ বলি দেওয়া হয় না। মানুষের রক্তে ভেজান ধানের তুষের তৈরি একটা পুতুলকে বলি দেওয়া হয়। শোনা যায় ১৫০ লোক নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন এই নরবলিতে।”
-“আচ্ছা এই যে মানুষের রক্তে পুতুল ভিজিয়ে রাখা হয় বললেন এখনো, সেই রক্তটা কোথা থেকে দেওয়া হয়?” টিটোদি জিজ্ঞাসা করল।
-“কালজানি বলে এখানে একটা গ্রাম আছে। সেই গ্রামেরই এক পরিবার বছরের পর বছর এই কাজে রক্ত দিয়ে আসছে।” পুরোহিত মশাই জানালেন।
-“ঠাকুরের মূর্তির ছবিটা একবার আমাদের দেখাতে পারেন?” টিটোদি জিজ্ঞেস করল।
পুরোহিত মশাই মন্দিরের ভেতর থেকে ছবি এনে দেখালেন। মূর্তিটা পুরোপুরি অন্যান্য দুর্গা ঠাকুরের থেকে আলাদা। দুর্গা ঠাকুরের মূর্তিতে বাঘ কোথাও দেখিনি আমি। মূর্তিটার ছবি অনেকক্ষণ ধরে খুঁটিয়ে দেখার পর সেটা ফেরত দিয়ে টিটোদি পুরোহিত মহাশয়কে জিজ্ঞেস করল, “আচ্ছা, প্রথমবার কি বড় দেবীর পুজো এখানেই হয়েছিল?”
-“হ্যাঁ, এখানেই প্রথম থেকে পুজো হয়ে আসছে।” পুরোহিত মহাশয় উত্তর দিলেন।
-“মহারাজা দেবীর স্বপ্নটা যখন দেখেছিলেন তখন উনি কোথায় ছিলেন বলতে পারেন?”
-“নিশ্চয়ই রাজবাড়ীতেই ছিলেন।”
-“আচ্ছা, আরেকটা জিনিস বলতে পারেন? এই বড় দেবীর বাড়িতে কখনো কোন বহু পুরনো হীরে বসানো গণেশ মূর্তি আনা হয়েছিল?”
-“কই না তো, সেরকম তো কখনো শুনিনি কারো মুখে!”
পুরোহিত মশাইকে অনেক ধন্যবাদ জানিয়ে আমরা বড় দেবীর বাড়ি থেকে রওনা হলাম কোচবিহার রাজবাড়ীর দিকে।
-“টিটোদি, লাঞ্চ করে নিয়ে তারপর না হয় রাজবাড়ী যাই।”
-“ঠিক আছে, তাই চল। যে বাসটায় আমরা এলাম সেটা ৩:৩০এ ছাড়বে। আমি সিট রিজার্ভ করে রেখেছি। তাড়াতাড়ি খেয়ে তারপর রাজবাড়ীতে ঘন্টাখানেক থেকে ফিরে যাব।”
রাজবাড়ী যাওয়ার পথেই একটা ছোটখাটো হোটেলে আমরা লাঞ্চ সেরে নিলাম। রাজবাড়ীর সিংহ দুয়ারে যখন আমরা পৌঁছলাম তখন বেলা দেড়টা। প্রায় আধঘন্টা ধরে আমরা রাজবাড়ীর মিউজিয়াম ঘুরে দেখলাম। রাজ আমলের বিভিন্ন জিনিসপত্র এবং ছবি রয়েছে সেখানে। সব কিছু ঘুরে দেখে টিটোদি বলল, “শ্রীকান্ত, এবার যা করার তোকে করতে হবে।”
-“আমাকে?” শ্রীকান্তদা যেন আকাশ থেকে পড়লেন।
-“রাজবাড়ীটা মেনটেন করে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। এখানেই পাশেই তাদের অফিস রয়েছে। আমরা সেখানে যাব, তুই তোর নিজের পরিচয় দিবি আর এই প্রশ্ন গুলো করবি।”
আমরা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার অফিসে এসে পৌঁছলাম। শ্রীকান্তদা নিজের পরিচয় দিলেন। তবে যে ভদ্রলোকের সাথে আমাদের কথা হচ্ছিল তিনি মনে হয় না শ্রীকান্তদার কোন বই পড়েছেন বা তাঁকে চেনেন। কিন্তু তিনি ভালভাবেই অভ্যর্থনা করে আমাদের বসতে বললেন। ভদ্রলোকের নাম পরিতোষ বাগচী। টাক মাথা, গায়ের রং শ্যামলা। বেশ মোটাসোটা চেহারা। পরনে নীল শার্ট ও টাই। উনি ঠিক কি পোস্টে আছে সেটা জানা গেল না। তবে তিনি আমাদের সাথে বেশ ভালই কথাবার্তা শুরু করলেন।
-“আচ্ছা, একটা জিনিস বলতে পারেন? এই রাজবাড়ীতে কোন হীরে-বসানো গণেশ মূর্তি ছিল বা আছে। এরকম কোন খবর জানেন?” শ্রীকান্তদা জিজ্ঞেস করলেন।
-“সেই গণেশ মূর্তিটার কথা বলছেন, যেটা মালবাজারের দত্ত বাড়িতে রয়েছে?”
-“হ্যাঁ সেটাই।”
-“না সেরকম তো কখনো শুনিনি। মূর্তিটা তো দত্ত বাড়িতেই থাকার কথা। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার হল আপনাদের আগে আরো দুজন এসেছিলেন। তাঁরাও একই খোঁজ করছিলেন। কি ব্যাপার বলুন তো?”
-“না সেরকম কিছুই নয়। আপনাকে সত্যি কথাটা খুলেই বলি। আমি একজন প্রাইভেট ডিটেকটিভ। ওই বাড়িতে একটা খুন হয়েছে। আমাদের ধারণা সেই খুনের সাথে এই মূর্তিটির কোনো যোগাযোগ থাকলেও থাকতে পারে।” টিটোদি বলল।
-“দেখুন, আমি যা জানি তাই বললাম। আমি কিন্তু কোন কোর্ট বা পুলিশ স্টেশন কোথাও যেতে পারব না। আমাকে দয়া করে এসব ব্যাপারে জড়াবেন না।”
-“না না, আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন। আপনাকে কোথাও জড়ানো হবে না। আচ্ছা যে দুজন এসেছিলেন তাঁদের ছবি দেখলে চিনতে পারবেন?”
-“হ্যাঁ, আশাকরি পারব। কারণ এক মাসের ভিতরেই এসেছিলেন তাঁরা।”
টিটোদি কয়েকটা ছবি বের করে দেখানোর পর সৌম্যজিৎ চৌধুরীর ছবিটা দেখে ভদ্রলোক চিনতে পারলেন। বললেন, “এই ভদ্রলোক তো এসে ছিলেন। কোন জার্নালে লেখালেখি করেন বললেন। এখান থেকে কিছু পুরনো ছবি কপি ও সংগ্রহ করে নিয়ে গেলেন। পুরনো কিছু ফাইল আছে সেগুলো বের করে দেখিয়েছিলাম ভদ্রলোককে।”
-“আচ্ছা! যে ফাইলগুলো ভদ্রলোককে দেখিয়েছিলেন, সেগুলো একবার দেখা যায়?”
-“হ্যাঁ, তা আপনাকে দেখাতে পারি।” বলে ভদ্রলোক একটা ফাইল বের করে দেখালেন।
ফাইলটা নিয়ে মিনিট দশেক ঘাঁটাঘাঁটি করার পর। টিটোদি বলল, “এই তো, এখানে কতগুলো পুরনো মূর্তির ছবি রয়েছে। তার মধ্যে একটা গণেশ মূর্তি।”
আমরা সবাই ভালো করে মূর্তিটার ছবি দেখলাম। শুধু ছবিটা রয়েছে, খুব বেশি তথ্য সেখানে নেই। রাজপরিবারের যেসব পুরনো দামি মূর্তি ছিল সেগুলো সম্পর্কেই ছবি আর অল্প তথ্য রয়েছে সেখানে। মূর্তিটা মহারাজা ধীরেন্দ্র নারায়ন নিজের তত্ত্বাবধানে বানিয়েছিলেন কাউকে উপহার দেবেন বলে। এই তথ্যটুকু সেখানে লেখা আছে।
কথাবার্তা বলে আমরা বেরিয়ে চলে আসছিলাম, হঠাৎ পরিতোষ বাবু আমাদের ডাকলেন, “একটা জিনিস হঠাৎ মনে পড়ল। মূর্তির খোঁজে আরেক জন মহিলা এসেছিলেন। তিনি একটা চাবি ফেলে রেখে গেছেন। আরেকটা ব্যাপার, প্রথমে যে ভদ্রলোক এসেছিলেন, মানে যাঁর ছবি আপনি দেখালেন তাঁর কথা দ্বিতীয় জন অর্থাৎ চাবি ফেলে যাওয়া মহিলাও জিজ্ঞেস করছিলেন। তাঁর ছবি দেখিয়ে আমাকে বললেন সে এসেছিল কিনা।” বলে ভদ্রলোক একটা চাবির রিং এগিয়ে নিয়ে দিলেন। আমরা সবাই দেখলাম সেটা একটা পার্সোনালাইজড চাবির রিং। রিং’এর গায়ে একটা মিষ্টি দেখতে মেয়ের ছবি। চাবির রিংটার একটা ফটো নিয়ে সেটা ফেরত দিয়ে পরিতোষ বাবুকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমরা বাসস্ট্যান্ডের দিকে চলে গেলাম। হাতে সময় খুব বেশি নেই। তিনটে পনেরো বেজে গেছে। সাড়ে তিনটেয় গাড়িটা ছাড়বে।
পথে যেতে যেতে টিটোদি সেরকম কথা বলল না। বেশ গম্ভীর হয়ে রইল। বাড়ি পৌঁছনোর পর আমাদের সবাইকে অবাক করে দিয়ে সে জানাল যে সে আগামীকাল কলকাতা যাবে। খুব জরুরী দরকার আছে। বাগডোগরা থেকে সকালের ফ্লাইটে যাবে আর সন্ধ্যায় ফিরে আসবে।

চলবে…

বড় দেবীর গোলকধাঁধায় টিটো দি [চতুর্থ পর্ব]

বড় দেবীর গোলকধাঁধায় টিটো দি [ষষ্ঠ পর্ব]

Author: admin_plipi