বড় দেবীর গোলকধাঁধায় টিটো দি [সপ্তম ও শেষ পর্ব]

বড় দেবীর গোলকধাঁধায় টিটো দি [সপ্তম ও শেষ পর্ব]
লেখা : সৌরভ সেন

আগে যা ঘটেছে…

দত্তবাড়িতে রক্তে লেখা পরপর দুটো হুমকি চিঠি আর তারপরেই বাড়ির চাকর ছাদ থেকে পড়ে খুন। কোচবিহারের রাজার মহামূল্যবান গনেশ মূর্তি নাকি দত্তবাড়িতে আছে। বাড়ি বিক্রি নিয়ে দত্ত ভাইদের মতবিরোধ আছে। দত্ত বাড়ির পারিবারিক ডায়েরিতে এক জটিল ধাঁধা। বোঝা যাচ্ছে যে গণেশ মূর্তি নিশ্চিত ভাবে ছিল, ডাকাতির পর সেটা লুকিয়ে রাখা হয়েছে। মূর্তি নিয়ে আরো দুজন খোঁজখবর করছে, ইতিহাসের প্রোফেসর সৌমজিৎ এবং প্রোমোটার মিতুল পালের মেয়ে দিয়া। তারপর…

কথা মতো দত্ত বাড়ির সবাই তৈরি হয়ে অপেক্ষা করছিল আমাদের জন্য। টিটোদি বিশ্বনাথ বাবুকে বলে রেখেছিল বাড়ির সবাই যেন উপস্থিত থাকে। সাথে ওই প্রোমোটার ভদ্রলোককেও থাকতে বলা হয়েছিল। আমরা পৌঁছে গেলাম সকাল দশটায়।
-“সবাই যখন এসে গেছেন তাহলে শুরু করি।” টিটোদি বলে উঠল।
-“হ্যাঁ নিশ্চয়ই। তবে আপনারা একটু জল খাবার খেয়ে নিন।” বিশ্বনাথ বাবু বলে উঠলেন।
-“না, সে পরে হবে। প্রথমে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল খুনের রহস্য কিনারা করার জন্য। যদিও তার পর এর মধ্যে একটা মূর্তির ব্যাপার ও ঢুকে পড়ে, এবং এখন খুনের ব্যাপারটা গৌণ হয়ে মূর্তির ব্যাপারটাই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
-“মূর্তিটা সত্যিই আছে নাকি?” বিশ্বনাথ বাবু প্রশ্ন করলেন।
-“আছে বলেই আমার ধারণা। এখন এক প্রকার নিশ্চিত বলতে পারেন। প্রথমে আমি দু’একটা প্রশ্ন করি, তারপর সমাধানের দিকে আসছি।”
-“সৌমজিৎ বাবু, আপনারা পা এখন ভালো আছে?”
-“আমার পায়ে তো কিছু হয়নি!”
-“সেকি? এইতো আপনার পায়ের এক্সরে রিপোর্ট। বাইক চালাতে গিয়ে পড়ে আপনার একটা পা ফ্র্যাকচার হয়ে যায়। এটাই তো আপনি ইমেইল করে জানিয়েছেন আপনার ইউনিভার্সিটিকে। ডক্টর প্রেসক্রাইব করেছেন দু’মাসের কমপ্লিট বেড রেস্ট।”
-“না মানে, এত দিনের জন্য এখানে আছি, আসলে জানেনই তো হঠাৎ করে দিদিমার শরীরটা খারাপ হয়ে যায়। এসব বললে তো আর ছুটি পাওয়া যাবে না এতদিন।”
-“তা আপনি তো এক সপ্তাহের জন্য এসেছিলেন?”
-“হ্যাঁ, প্রথমে সেরকম ভেবেই তো এসেছিলাম।”
-“তারপর এসে কাগজের খবরটা দেখলেন খুব সম্ভবত শৌণকের ঘরে। আর লোভ সামলাতে না পেরে গেলেন কোচবিহার রাজবাড়িতে। তাইতো?”
-“কি খবর? কিসের কথা বলছেন? আমি ঘুরতে গিয়েছিলাম কোচবিহার রাজবাড়ীতে।”
-“আপনার ঠাম্মির শরীর খারাপ, এমন অবস্থায় আপনি ঘুরতে গেলেন, তাও আবার বউকে না নিয়ে একা গেলেন? একটু আশ্চর্যের বিষয় নয় কি!”
-“আমি পুরনো এক বন্ধুর সাথে গিয়েছিলাম। আর আমি বউকে না নিয়ে অনেক জায়গায় ঘুরতে যাই। আর এতে আপনি কি প্রমাণ করতে চাইছেন? খুনটা আমি করেছি?”
-“আপনি এত উত্তেজিত হবেন না। আর তাছাড়া টাকার অংকটা যখন কোটিতে তখন ছাদ থেকে ধাক্কাটা যে কেউই মারতে পারে। তবে বাংলায় একটা প্রবাদ আছে জানেন তো, অতি চালাকের গলায় দড়ি। আপনার দিদিমার শরীর খারাপ হওয়ার তিনদিন আগে আপনি ছুটির অ্যাপ্লিকেশন করেন। আপনি কি আগে থেকেই জানতেন যে শরীর খারাপ হবে? আর তাছাড়া আমি কলকাতায় গিয়ে থমাস মানে আপনি যার কাছে মূর্তি বিক্রির কথা ভেবেছিলেন তার সাথে কথা বলেছি। এবার আপনি ভাবতে পারেন আমি থমাসকে কি করে চিনলাম। আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকেই তার সন্ধান পেয়েছি। আমার বন্ধু ডিএসপি রমানাথ গাঙ্গুলী আমাকে সব ব্যবস্থা করে দেয়। সেই আমাকে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে নিয়ে যায় এবং থমাসকেও ডেকে পাঠায়।”
এবারে ভদ্রলোক একেবারে চুপ করে গেলেন। আর আমিও টিটোদির হঠাৎ করে কলকাতায় যাওয়ার কারণ বুঝতে পারলাম। টিটোদি আবার বলতে শুরু করল, “এবারে আসি প্রদীপ বাবুর কাছে। আপনার কি পুঁই গাছের ফল খুব ভালো লাগে?”
-“কেন বলুন তো? আমি কিছু বুঝতে পারছি না। আপনি কি বলতে চাইছেন?”
-“না, আপনার ঘরের টেবিলে কতগুলো পুঁই গাছের ফল পড়েছিল। তাই জিজ্ঞেস করছিলাম আর কি।”
-“হয়তো অন্য কেউ রেখেছে।”
-“আচ্ছা বেশ। এবার আসি শৌণক এর কাছে। নিঃসন্দেহে শৌণক খুব বুদ্ধিমান ছেলে। আচ্ছা শৌণক দিয়াকে তোমার বাড়ির লোকজন চেনে?”
-“না মানে..”
-“খুব মিষ্টি দেখতে। রান্নাও বেশ ভালোই জানে। আশাকরি বাড়ির লোকের আপত্তি হবে না। পরিচয়টা করিয়ে দাও বাড়ির লোকের সাথে।”
বিশ্বনাথ বাবু বললেন, “কিছুই তো বুঝতে পারছি না, একটু খোলসা করে বলবেন সব?”
-“আচ্ছা, এবার গোড়া থেকেই সব শুরু করি। তবে তার আগে একটু বলে রাখি আপনার ছেলেকে নিয়ে আপনাদের গর্বিত হওয়া উচিত। জীবনে কোন একটা পরীক্ষা খারাপ হতেই পারে। ও জয়েন্ট এন্ট্রান্স ভালো র‌্যাঙ্ক করেনি বলে ওকে আপনারা একদম বকাবকি করবেন না। আমি প্রথমবার যখন আপনাদের বাড়ি আসি তখন নোটিশ করেছিলাম আপনারা ওকে রেজাল্ট নিয়ে বকাবকি করছেন। ও এখন যেরকম পড়াশোনা করছে এখান থেকেও ওর অনেক বড় হওয়ার স্কোপ আছে। ও সত্যিই খুব ইন্টেলিজেন্ট এবং ভালো মনের ছেলে।
এবার আসি মূল কথায়। প্রথমে আপনাদের বাড়িতে মূর্তিটা থাকার খবর পাওয়া যায়। আপনাদের দু’ভাইয়ের কথাবার্তা হয়। আপনি বলেন যদি সত্যিই ওরকম মূর্তি পাওয়া যায় তাহলে সেটা কোনোভাবেই বিক্রি করা যাবে না। আপনার ভাই আপনাকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে ওটার দাম কয়েক কোটি টাকা। কিন্তু আপনি আপনার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। তখন থেকেই শুরু হয় আসল খেলা। আপনার ভাই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন যে তার প্রোমোটার বন্ধুকে কাজে লাগিয়ে বাড়িটা ফাঁকা করাবেন। তারপর পুরো বাড়ি খুঁজে দেখবেন‌। প্রয়োজন হলে বাড়ির কিছু অংশ ভেঙেও দেখবেন। আপনাদের বাড়ির গেটের কাছে রক্তে লেখা চিঠি আর মাথার খুলি পাওয়া যায়। সেগুলো ফেলে রেখে যায় আপনার ভাইয়ের প্রোমোটার বন্ধু অর্থাৎ দিয়া পালের বাবা মিতুল পাল। তারপর আপনাদের বাড়ির চাকর অ্যাক্সিডেন্টালি ছাদ থেকে পড়ে মারা যায়।”
-“খুন হয়নি বলছেন? তাহলে ওই চিঠিটা?”
-“ওই চিঠিটা লেখেন আপনার ভাই প্রদীপ দত্ত।”
-“আপনি তখন থেকে কি সব আবোল তাবোল বলে যাচ্ছেন! আমি কেন লিখতে যাব?” প্রদীপবাবু রেগে গিয়ে বলে উঠলেন।
-“প্রদীপ বাবু, আপনি থামুন। আমার কাছে সাক্ষ্য-প্রমাণ দুই যথেষ্ট আছে। মাথার খুলি যার থেকে নেওয়া হয়েছে সে এখন পুলিশের হাজতে আছে। সে আপনাদের দুজনের নামই বলেছে। অর্থাৎ বাঁচবার মতো কোনো উপায়ই আপনার নেই। আর সবাইকে বলছি একটু মন দিয়ে শুনুন, আমাকে শেষ করতে দিন, তারপর প্রশ্ন করবেন।
হ্যাঁ, তো যেটা বলছিলাম। আপনাদের চাকর মারা যাওয়ার পর বাড়িতেই হয়ে থাকা পুঁই গাছের ফল দিয়ে আপনার ভাই কিছু লিখে মৃতদেহের পাশে ফেলে রাখে। আমি সিসিটিভি ফুটেজ চেক করতে গিয়ে দেখি যে সময় ঘটনাটা ঘটেছে তার কিছুক্ষণ পরেই ছাদে অনেকটা জল। তারপর কি জানতে পারি সেদিন রাতে আপনাদের বাড়ীর একটা জলের পাইপ ভেঙে গিয়েছিল। সেই পাইপ থেকেই জল পড়ে জায়গাটা পিচ্ছিল হয়ে গেছিল। আপনাদের চাকরের এর পায়ে ছিল স্লিপার, যেটা কিনা খুবই পিচ্ছিল জাতীয়। তাই ব্যালেন্স রাখতে না পেরে নতুন করা দেওয়ালের উপর গিয়ে পড়ে আপনাদের চাকর, আর বডি ওয়েট বেশি থাকার কারণে দেওয়াল ভেঙে নিচে পড়ে যায়। তার শরীরে ক্ষত চিহ্ন ও পাওয়া গেছে যেটা কিনা দেওয়ালে বাড়ি লেগেই হয়েছে। এবার আপনার ভাই দেখল এটাই মোক্ষম সুযোগ ভয় দেখানোর। কিন্তু অত তাড়াতাড়ি রক্ত পাবে কোথায়? তাই পুঁই গাছের ফল দিয়ে কিছুটা লিখল, যাতে দেখে মনে হয় রক্ত দিয়ে লেখা।
এবারে একটু পেছনে ফিরে আসতে হয়। সৌমজিৎ বাবু এই বাড়িতে এসে মূর্তি নিয়ে খোঁজ খবর শুরু করেন। সেটা ভালো লাগে না আপনার ভাইয়ের। তাই তাকে স্পষ্ট বলে দেয় বাড়ি থেকে চলে যেতে। তখন সৌমজিৎ বাবু বলেন এই মূর্তি পেলেও প্রদীপ বাবুরা দুজন মিলে সঠিক জায়গায় সেটা বিক্রি করতে পারবেন না। পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যাওয়ারও ভয় আছে। তিনি এও জানান যে তিনি জানেন আসল লোককে, যার কাছে বিক্রি করলে সঠিক দাম পাওয়া যাবে। তাই তিনজনে মিলে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি। একদিন ঘরে চা দিতে এসে আপনাদের চাকর সব কথাবার্তা শুনে ফেলে। ঠিক তার কয়েক দিনের মাথায় সে পড়ে মারা যায়। সৌমজিৎ বাবুর সন্দেহ হয় এই কাজটা প্রদীপ বাবুর। তাই তিনি রেগে গিয়ে প্রদীপবাবুর সাথে ঝগড়া করতে যান। তিনি এসব ঝামেলায় পড়তে চাননি কারণ তিনি গভর্মেন্ট জব করেন। তাই ফালতু ঝামেলা এড়িয়ে চলতে চান।
এসব কিছুই আমি জানতে পারি আপনার ছোট ছেলের কাছে। তাই গল্পের বই নিয়ে বেশিরভাগ সময় থাকে বলে আপনারা যে ওকে ধমক দেন, সেটা দয়া করে দেবেন না। কে জানে হয়তো বড় হয়ে ওই ফেলুদা হবে। আপনার দুই ছেলেই খুব ব্রিলিয়ান্ট।
খুনের ব্যাপারটা তো গেল। এবার আসি মূল কথায়। কোচবিহারে গিয়ে জানতে পারি সৌমজিৎ বাবু আর মিতুল পালের মেয়ে অর্থাৎ দিয়া পাল এই দুজন মূর্তি নিয়ে খোঁজখবর করতে যায়। প্রথমে ভেবেছিলাম বাবাই মেয়েকে পাঠিয়েছে। পরে খোঁজ খবর নিয়ে আমার ভুল ভাঙল। ওনারা তিনজনেই যেহেতু একসাথে কাজ করছেন তাহলে মেয়েকে আলাদা করে পাঠানোর তো কোন মানে হয় না। তখন হঠাৎ নোটিশ করলাম মালবাজার কলেজ এর ম্যাথমেটিক্স অনার্সএ তো আপনার ছেলেও পড়ে। তারপর রাখালবাবুকে ইনফর্মার লাগাতে বলি। সেই খোঁজখবর নিয়ে জানায় যে আপনার ছেলে আর দিয়া খুব অন্তরঙ্গ বন্ধু, হয়তো বন্ধুর থেকেও বেশি কিছু। আর তারপর আপনার ছেলের ঘরে ডাইরিতে ধাঁধাটা লেখা এবং সেটা সলভ করার চেষ্টাও করা হয়েছে দেখতে পাই। তখন বুঝতে পারি নিজে খোঁজ না নিয়ে আপনার ছেলে দিয়াকে দিয়ে খোঁজ নেওয়া করিয়েছে। যাতে বাড়ির অন্য কেউ ব্যাপারটা বুঝতে না পারে। এখানে বলে রাখা ভালো শৌণক বুঝতে পেরেছিল মূর্তিটা কাকু বা দাদার হাতে গেলে পাচার হয়ে যাবে। কিন্তু বাবার ইচ্ছে পূরণ করার জন্যই সে নিজে থেকে চেষ্টা করছিল।
এবার আসি ধাধাটার ব্যাপারে। প্রথমেই ধাঁধার যে কটা মানে উদ্ধার করতে পারি সেগুলি হল অস্টেক অষ্টতলাকার মনে হল আটটা হীরে। অষ্টতলাকার বলতে সাধারণত হীরে জাতীয় পদার্থকেই বোঝায়। তারপর বলা আছে গোষ্ঠীর ঈশ্বর, গোষ্ঠীর ঈশ্বরও গণেশ দেবতারই আরেক নাম। মুষিকের কথা বলা আছে। আসলেই ইঁদুর অর্থাৎ গণেশের বাহনেরই আরেক নাম হল মুষিক। এই অবধি মোটামুটি বোঝা গেল। কতগুলো প্রশ্ন থেকে যায়… সেগুলো হল,
এক, সিংহ আর বাঘের কথা বলা আছে সেগুলি আসলে কি?
দুই, বড় দেবী প্রথমবার কোথায় এসেছিল? কোচবিহারের বড় দেবীর তো এখানে আসার কথা নয়। তাহলে কি মূর্তিটা অন্য কোথাও আছে!
আর তিন, ‘কৈলাসে ভালই ছিল গোষ্ঠীর ঈশ্বর, দেবীর তান্ডব দেখিয়া মুষিকে চড়িয়া চলিয়া গেল বিঘ্নেশ্বর।’ কৈলাস তো গণেশ দেবতার বাসস্থান। তাহলে? কৈলাস মানে কি দত্তবাড়ি কেই বোঝানো আছে? দেবীর তান্ডব বলতেই বা কি বোঝানো আছে! বাড়িতে যে ডাকাতি হয়েছিল সেটা কে কি বড় দেবীর অভিশাপ হিসেবে মেনেছিল দত্ত বাড়ির লোকজন?
আরও একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হল বাড়িতে ডাকাত আসার প্রায় একমাস পর কবিতাটি লেখা। তাহলে কি ডাকাত দল মূর্তি নিয়ে চলে গেছে এটাই বলতে চাইছে? এসব চিন্তা ভাবনা নিয়েই আমি কোচবিহারের যাই। সেখানে গিয়ে কিছুটা আঁচ করতে পারি, কিন্তু রহস্যের সমাধান তখনো হয় না। তারপর একদিন খাবার টেবিলে হঠাৎ নিলু বলে দেবী চৌধুরানীর কথা। তখন বুঝতে পারি যে দেবী মানে আসলে দেবী চৌধুরানী। আসলে বাড়িতে দেবী চৌধুরানীর ডাকাত দল এসেছিল তখন কোনরকমে মূর্তিটা বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু আর ঝুঁকি না নিয়ে তারপর মূর্তিটাকে সরিয়ে ফেলা হয়।
তারপর আপনার বড় ছেলের ডায়েরিতে দেখতে পাই ধাঁধাটির সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। সেখানে লাল রংয়ের কালিতে তিনটে জিনিস লেখা ‘কোচবিহার, ft 1533 সন।’ ফিট আর ১৫৩৩ এই দুটো লেখা পাশাপাশি দেখে আমার চোখ যায় এবং তখনই বুঝতে পারি আসলে ১৫৩৩ ফুটের কথাই বলা হয়েছে। তখন আমার কাছে পুরো ধাঁধাটা পরিষ্কার হয়।
সকালে সূর্য প্রণাম করতে বলা হয়েছে। তার মানে পূর্ব দিকে মুখ করে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়েছে। সিংহকে ফটকে ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে, সেটা আসলে সিংহ ফটক বা সিংহ দুয়ারের কথাই বলা হয়েছে। বাঘকে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আসলে বড় দেবীর মূর্তিতে বাঘ-সিংহের বাঁদিকে রয়েছে। তাই সিংহদুয়ার এর সামনে পূর্ব দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে বাঁ হাতে ১৫৩৩ ফিট যেতে বলা হয়েছে। আপনাদের সিংহদুয়ার থেকে ১৫৩৩ ফিট গেলে যে তুলসীতলা আছে তার নিচেই মূর্তিটা আছে বলে আমার বিশ্বাস।”
টিটোদির কথামতো মূর্তি সেখানেই পাওয়া গেল। বিশ্বনাথ বাবু খুশি হয়ে টিটোদিকে ৫০ হাজার টাকার চেক দিয়েছিলেন। শ্রীকান্তদার লেখা মোটামুটি শেষের পথে। এবারের পুজোয় কোচবিহারের এই রহস্য নিয়েই বেরোবে তাঁর উপন্যাস। তাঁর হঠাৎ করে নর্থবেঙ্গল আসা বিফলে যায়নি। এভাবেই হয়তো কত ইতিহাস লুকিয়ে আছে মাটির নিচে। কোনদিন টিটোদির মত কারো চেষ্টায় হয়তো এমনি করে আবার উঠে আসবে পৃথিবীর বুকে।

শেষ


বড় দেবীর গোলকধাঁধায় টিটো দি [চতুর্থ পর্ব]

বড় দেবীর গোলকধাঁধায় টিটো দি [ষষ্ঠ পর্ব]

Author: admin_plipi