বেনারসের ঘাট গোয়েন্দাগিরির স্টার্ট [প্রথম পর্ব ]

বেনারসের ঘাট গোয়েন্দাগিরির স্টার্ট [প্রথম পর্ব ]
লেখা – সন্দীপন গাঙ্গুলী
ডিজিটাল পেইন্টিং – অভিব্রত সরকার

প্রথম দিন

নর্থইস্ট এক্সপ্রেস দীনদয়াল উপাধ্যায় স্টেশন ঢুকল সকাল সাড়ে সাতটায়। নভেম্বরের সেকেন্ড উইক। দিনের বেলায় গরম লাগলেও রাত্রি বেলা হালকা ঠান্ডা পড়ে বেনারসে। স্টেশন থেকে বেরিয়ে বাইরে অটো স্ট্যান্ডে এসে বেনারস যাওয়ার অটো খুঁজতেই একটা ছোকরা রিজার্ভে যেতে রাজী হয়ে গেল। গুগল ম্যাপ খুলে দেখলাম দীনদয়াল উপাধ্যায় স্টেশন থেকে হোটেলের ডিসটেন্স ১৫ কিলোমিটার, মানে ওই আধঘন্টা মত।

এখানে বলে রাখি, আমি গিরিশ গাঙ্গুলী, বয়স ৩০, হাইট ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি, ফর্সা, মাঝারি ফিগার। চাকরির সুবাদে ভাড়া থাকি জলপাইগুড়ি শহরে। আমি ওখানে একটা রাজ্য সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর। একটা কনফারেন্স অ‌্যাটেন্ড করতে আমি কাল, মানে সোমবার বিকেলে, জলপাইগুড়ি রোড স্টেশন থেকে নর্থইস্ট এক্সপ্রেস ধরেছিলাম। সিভিল ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর রিসেন্ট এডভান্সমেন্টের উপর তিনদিনের এই কনফারেন্স আয়োজন করেছে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, বি এইচ ইউ। মানে তৎকালীন কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়, এবং তৎপরবর্তী বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটি, মানে বি এইচ ইউ। বছর খানেক আগেও দিল্লি গিয়েছিলাম দীনদয়াল উপাধ্যায় স্টেশন এর ওপর দিয়ে। তখন অবশ্য এই স্টেশনের নাম ছিল মুঘল সরাই। রাস্তায় প্রচন্ড জ্যাম এর জন্য হোটেল পৌঁছতে লাগলো ৪৫ মিনিট। কনফারেন্সের কো-অর্ডিনেটররাই তাদের পার্টিসিপেন্টদের জন্য হোটেলের ব্যবস্থা করেছেন। এই চার দিনের থাকা-খাওয়া সব ওনারাই প্রোভাইড করছেন। হোটেলের নাম হোটেল গ্যাঞ্জেস গ্র্যান্ড। চারতলা পেল্লাই বড় ঝাঁ-চকচকে থ্রি স্টার হোটেল। এই জায়গাটার নাম গাদোলিয়া চক। বেনারসের বিখ্যাত দশাশ্বমেধ ঘাট এখান থেকে ১০ মিনিটের হাঁটা পথ। অটো থেকে নেমে চারিদিকে একবার চোখ বুলিয়ে জটায়ুর ভাষায় যাকে বলে ‘মনে যেন একটা ভক্তি ভাব জেগে উঠছে’। জয় বাবা ফেলুনাথ এর শুটিং হওয়া ওই ঘাটগুলোতে যেতে মন ব্যাকুল হয়ে উঠল।

হোটেলের একতলাটায় রয়েছে দু’চারটে শপ্। দোতলার সামনের অংশে রয়েছে ডাইনিং প্লেস। দোতলার পিছনের অংশটা, আর পুরো তিন তলা ও চার তলায় হল থাকার রুম। আমার রুমটা চারতলায়। রুমে ব্রেকফাস্ট দিয়ে যেতে বলেছিলাম। স্নানটান সেরে ব্রেকফাস্ট করে এক ঘণ্টার মধ্যে রেডি হয়ে গেলাম। কনফারেন্সের ইনাগরেশন শুরু হবে ১০ টায়। দেরী না করে বেরিয়ে পড়লাম।

লিফ্টের দরজা খুলে ভেতরে ঢোকার সময় হঠাৎ করে অপ্রত্যাশিতভাবে সামনে প্রফেসর আচার্যকে দেখে রীতিমতো হকচকিয়ে গেলাম। প্রফেসর নীলাদ্রি আচার্য, কানপুরে ও আমার মত একটা রাজ্য সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর। বয়স আমার মতই হবে, হাইট ৬ ফুট, ফর্সা, হাট্টাকাট্টা জিম করা বডি, আর চোখে সুন্দর রিমলেস চশমা। পরনে হোয়াইট শার্ট এবং ডেনিম ব্লু জিন্স। এই গত বছরই দিল্লিতে একটা কনফারেন্সে ওনার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। বেশ হাসিখুশি মানুষ, মুখে একটা বুদ্ধিদীপ্ত ভাব। এই এক বছরে আমার সঙ্গে অনেকবার সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা হয়েছে। আমি হ্যান্ডশেক করতে যাব কিন্তু তার আগেই উনি আমায় জড়িয়ে ধরলেন। যদিও সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকবার কারেকশন করা হয়ে গিয়েছে, তাও সামনে থেকে বারবার প্রফেসর আচার্য নামে ডাকাতে উনি শেষে বিরক্ত হয়েই বললেন, “কি প্রফেসর প্রফেসর বলছ বলতো! কতবার তোমায় বলেছি, নীল, বন্ধুরা আমায় নীল বলে ডাকে। তা তোমার পেপার প্রেজেন্টেশন কবে কনফারেন্সে?”
-“এই তো আজই দুটো থেকে।” আমি বললাম, “আর আপনার?”
-“আবার আপনি টা কেন হে গিরিশ!” বললেন থুড়ি বলল নীল, “আমার থার্ড ডে তে।”
অটো করে আইআইটি ক্যাম্পাস পৌঁছতে ২০ মিনিট লাগল। সারাদিনে কনফারেন্সে উল্লেখযোগ্য বলার মতো কিছু ঘটেনি। আমার প্রেজেন্টেশন ছিল দুটো নাগাদ। প্রেজেন্টেশনের পরে লাঞ্চ করে সার্টিফিকেট নিয়ে আমি আর নীল সাড়ে তিনটার মধ্যে হোটেল ফিরে এলাম। ঠিক হলো আধঘন্টা পর ফ্রেশ হয়ে দুজন মিলে একটু ঘাটের দিকে বেরোব।

আধঘন্টা পর আমি প্রায় রেডি এ সময় দরজায় টোকা পড়ল। দরজা খুলে দেখি নীল। সোফায় বসে গা হেলিয়ে দিয়ে বলল, “আরেকটু পরে বেরোই না, একেবারে গঙ্গা আরতির সময়। সবে চারটে দশ। সারাদিন যা গেল আর পায়ে হেঁটে দশ দিকে ঘুরে বেড়াতে ভালো লাগছে না। একেবারে সাড়ে পাঁচটা নাগাদ বেরোব গঙ্গা আরতি দেখতে। কি বলো?”
আমি যদিও অতটা টায়ার্ড হ‌ই নি। তবুও ওর মন রাখতে বাধ্য হয়ে বললাম, “ওকে। তাই হবে। চা বলি তাহলে রুমে?”
-“একদম।”
রুম সার্ভিসে ফোন করে দুটো চায়ের অর্ডার দিলাম। হঠাৎ করে একটা কৌতুহল জেগে উঠল। সকালে কনফারেন্সের ইনাগরেশন প্রোগ্রামের সময় ডায়াসে উপস্থিত ছিলেন কিছু বিখ্যাত সাইন্টিস্টস এন্ড প্রফেসরস। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ইনস্টিটিউশনের অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বড় পোস্টে আছেন, আবার কেউ কনফারেন্স এর সাবজেক্ট এর সঙ্গে রিলেটেড সাবজেক্টে অসামান্য কিছু করার জন্য সুপরিচিত। কিন্তু প্রশ্নটা তাদেরকে নিয়ে নয়। ডায়াসে উপস্থিত ছিলেন একজন এমন লোক যে নিজের বাবার প্রক্সি দিচ্ছিলেন। শেষে ফেলিসিটেশন এর পুরস্কার এবং সার্টিফিকেটটিও তিনিই নিয়ে গেলেন তার বাবার হয়ে।
তাই নীলকে প্রশ্নটা না করে থাকতে পারলাম না।
-“আচ্ছা, সকালে একটা জিনিস লক্ষ্য করলে? ওই যে লোকটা, যে নিজের বাবার হয়ে স্পিচ দিল এবং পুরস্কার ও সার্টিফিকেটটা নিয়ে গেল। ওনার বাবা এলেন না কেন? আর কেইবা উনি? প্রভাকর উপাধ্যায়, এরকম নাম তো আমাদের ফিল্ডে কোন দিন শুনিনি।”
-“আরে, কি বলছ তুমি! ডক্টর প্রভাকর উপাধ্যায়ের মতো লোক ইন্ডিয়ায় কেন গোটা ওয়ার্ল্ডে ফেমাস। বিখ্যাত ভাইরোলজিস্ট ছিলেন। তোমার মনে আছে আজ থেকে ৩ বছর আগে ২০১৭ তে ফ্রান্সে হঠাৎ করে রাতারাতি পালমো ভাইরাসের আবির্ভাব হয়েছিল। মাসখানেকের মধ্যে সেই ভাইরাস ফ্রান্স থেকে ধীরে ধীরে গোটা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। মনে আছে?”
-“হ্যাঁ হ্যাঁ। একটা রেস্পিরেটরি ট্রাবল হচ্ছিল। আর তার থেকেই মৃত্যু। হ্যাঁ তবে সে তো এক বছরের মধ্যেই রাতারাতি চলেও গেছিল।”
-“রাতারাতি যায়নি বন্ধু। রাতদিন জেগে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলেন ওয়ার্ল্ড এর বিভিন্ন প্রান্তের সায়েন্টিস্টরা। Pulvus T1 নামে একটি টিমও গঠন করা হয়েছিল ভ্যাকসিন আবিষ্কারের জন্য। তাতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত মিলিয়ে মোট ২৩ জন সাইন্টিস্ট মেম্বার হিসেবে ছিলেন। আর তাদের মধ্যে যার কাজ সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছিল তিনি হলেন…”
-“এই প্রভাকার উপাধ্যায়, তাই তো?”
-“ইয়েস নাউ ইউ গট ইট। ৮-৯ মাস অক্লান্ত পরিশ্রমের পরে আল্টিমেটলি ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়। গোটা ইউরোপকে মৃত্যু মিছিলের হাত থেকে বাঁচায় এই ভ্যাকসিন। আর Pulvus T1 এর সাফল্যের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি ছিলেন এই ডক্টর প্রভাকর উপাধ্যায়।”
-“ছিলেন কেন?”
-“He just passed away one month ago. সেরিব্রাল স্ট্রোক। এই বেনারসেই। উনি তো এখানকারই বাসিন্দা। তাই বেনারসে ছোট বড় টেকনিক্যাল নন টেকনিক্যাল যা প্রোগ্রামই হোক না কেন চিফ গেস্ট এর লিস্টে ওনার নামটা থাকত কমন। He is beyond any department and any specialisation. বুঝলে তো এবার!”
-“হ্যাঁ, সে তো বুঝলাম। ইস… কনফারেন্সটা যদি একমাস আগে হতো, ডেফিনেটলি ভদ্রলোকের সঙ্গে পরিচয় করতাম। তা উনি লোকজনের সঙ্গে পরিচয় করতেন তো, এত বড় লোক যখন?”
-“আমার নিজের অবশ্য পরিচয় ছিল না। তবে লোকের মুখে যা শুনি, তাতে মনে হয় না এরকম কোন ব্যাপার ছিল। এখানকার মানুষের ভেতরে ট্যালেন্ট যতই থাকুক না কেন, তার ওঠাবসা, মেলামেশা, রহন বহন দেখবে পুরোটাই আড়ম্বরহীন, সোজাসাপ্টা। বলে নাকি বিকেলের দিকে ধুতি আর ফতুয়া পরে ঘাটে গিয়ে বসলে অচেনা কেউ চিনতে পারত না যে, পাশে এত বড় একজন ব্যক্তিত্ব বসে আছেন।”
-“আচ্ছা, ওনার বাড়িতে একবার একটু ঢু্ঁ মারা যায় না? এত কাছে এসেও যদি একবার ওনার বাড়িটা যেতে না পারি বড় আফসোস থেকে যাবে। গেলে ঢুকতে দেবে তো সিকিউরিটির লোক, দুরছাই করে তাড়িয়ে দেবে না তো?”
-“আরে ধুর, তুমি যা ভাবছ ওসব কিছু নয়। বললাম না একেবারে সাধাসিধা জীবনযাপন। আমি যতদূর শুনেছি ওনার বাড়িতে এখন ওনার ছেলেই থাকে। গিয়ে দেখা যেতে পারে একবার। মন্দির আর ঘাট তো পড়ে রইলই দেখার জন্য, কিন্তু কাশী এসে এত বড় একজন সায়েন্টিস্ট এর জীবনযাত্রার একটু আঁচ সঙ্গে করে বয়ে নিয়ে যেতে না পারলে, উপলব্ধি হবে কি করে? রোজ রোজ তো আর লোকে ভ্যাকসিন আবিষ্কার করে না!”
নীলের কথায় ডক্টর উপাধ্যায়ের বাড়ি যাওয়ার জন্য মনে জোর পেলাম। তবে ঠিক হলো যাই হয়ে যাক না কেন, প্রথম দিন বেনারসে এসে দশাশ্বমেধ ঘাটে সন্ধ্যের গঙ্গা আরতিটা দেখা জাস্ট ছাড়া যাবে না। ভেবেছিলাম কনফারেন্সের কোঅর্ডিনেটরকে ফোন করব ডক্টর উপাধ্যায়ের এড্রেসটা জানতে। কিন্তু নিচে নেমে রিসেপসনিস্টকে জিজ্ঞেস করতেই উনি বলে দিলেন।

ডক্টর উপাধ্যায়ের বাড়ি রাম কাটোরা রোডের পেট্রলপাম্প এর পেছনে। গাদোলিয়া চক থেকে অটো করে মিনিট পনেরো লাগলো পেট্রোল পাম্প অবধি পৌঁছতে। নেমে একজনকে জিজ্ঞাসা করতেই উনি ডঃ উপাধ্যায়ের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে গেলেন। লোহার গেট খুলে ভেতরে দুটো বাড়ি দেখতে পেলাম। একটি দোতলা এবং একটি একতলা। দোতলা বাড়িটি আদ্দিকালের ধাঁচে বানানো বহু পুরনো, বেনারসের অন্যান্য সব বাড়ির মতই। আর নতুনটি হালে বানানো আমাদের কলকাতার মত আর তার মাথায় বড় করে একটা প্ল্যাকার্ড লাগানো ‘মহাদেব ভিলা’। আমাদের গেট খোলার শব্দে দোতলা বাড়ির ভেতর থেকে আজ সকালের সেই ভদ্রলোক বেরিয়ে এলেন।
-“মাফ কিজিয়ে সাহাব, সাব রুম বুক হ্যায়।” বললেন ডক্টর উপাধ্যায়ের ছেলে। ভদ্রলোকের বয়স আন্দাজ ৪০-৪২। মাঝারি হাইট, মাঝারি ফিগার, গায়ের রং তামাটে, ট্রিম করা মোটা গোঁফ, পরনে একটা নামাবলী লেখা ফতুয়া আর কালো প্যান্ট।
-“নানা… রুম চাইতে আসি নি। আজ সকালের যে কনফারেন্সে আপনি ছিলেন, আমরা সেটার পার্টিসিপেন্ট হিসেবে এসেছি। আমি প্রফেসর গিরিশ গাঙ্গুলী আর ইনি প্রফেসর নীলাদ্রি আচার্য।”
তারপর পরস্পর নমস্কার বিনিময় করে বললাম, “আপনার বাবার অনেক খ্যাতি শুনেছি। তাই ওনার বাড়িটা ঘুরে যাওয়ার খুব শখ হ’ল যখন এখানে এসেই পড়েছি। ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড ক্যান উই…”
-“আরে, কি যে বলেন… আসুন আসুন ভেতরে আসুন।”
ভেতরে ঢুকেই প্রথম যে ঘরটিতে গিয়ে আমরা বসলাম সেটি অত্যন্ত টিপটপ করে সাজানো। একদিকে একটা সোফা সেট, তার সামনে একটা ছোট টি টেবিল তার উল্টো দিকের দেওয়ালে টিভি, কিছু ফুলদানি ঘরের কোণে। টিভির দেওয়ালের সঙ্গে লাগানো আছে একটি উঁচু বক্স টেবিল ও একটি চেয়ার। ঘরে ঢোকার সময় টিভির দেওয়ালের পাশে যে দরজা আছে সেটা দিয়ে দেখতে পেলাম যে, পাশের ঘরে, মানে এই ঘরের পশ্চিম দিকের ঘরে কম্পিউটারে কাজ করছেন একজন মাঝবয়সী ভদ্রলোক।
আমাদের সোফায় বসিয়ে মিস্টার উপাধ্যায় তার চাকরকে ডেকে আমাদের জন্য দুটো শরবত বানাতে বললেন।
-“আমার নাম ভাস্কর উপাধ্যায়। ৩ মাস আগে কনফারেন্সের কমিটি তৈরি হওয়ার সময়ই ইউনিভার্সিটি থেকে বাবাকে ইনভিটেশন লেটার দিয়ে গিয়েছিল। তো হঠাৎ একমাস হ’ল বাবা চলে গেলেন। তাই কো-অর্ডিনেটর প্রফেসররা আমাকেই বললেন কিছুক্ষণের জন্য একবার আসতে। তা আপনারা উঠেছেন কোথায়?”, প্রশ্ন করলেন ভাস্কর বাবু।
-“হোটেল গ্যাঞ্জেস গ্র্যান্ডে। আপনারা কে কে থাকেন এই বাড়িতে?” প্রশ্ন করলাম আমি।
-“লোক বলতে আমি আর আমার চাকর ভজনলাল। মা তো বছর দশেক আগেই গত হয়েছেন। আর বাবাও বেঁচে থাকতে এ বাড়িতে মাসে একবার দু’বারই আসতেন দু চার দিনের জন্য। বাকি সময়টা তো বাবা দিল্লির ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজির ল্যাবেই পড়ে থাকতেন। দু’বছর আগে রিটায়ার্ড হলেন। তারপর থেকে এখানেই থাকতেন। মাঝে মাঝে যেতেন দিল্লি দরকার পড়লে।”
-“আর আপনার ওয়াইফ? ছেলে মেয়ে?”
-“না গিরিশ বাবু, আমি বিয়ে করিনি।”
কথা বলতে বলতে শরবত নিয়ে ভজনলাল ঘরে ঢুকলো। বেদানা কাজু ও টক দই দিয়ে বানানো স্পেশাল শরবত।
-“ঢোকার সময় পাশের ঘরে একজনকে দেখলাম মনে হল!” প্রশ্ন করল নীল।
-“ও হ্যাঁ, বলতে ভুলে গেছি। উনি শম্ভুনাথ ত্রিপাঠী। আসলে বাবার তো হঠাৎ করে সেরিব্রাল স্ট্রোক হয়। স্পট ডেথ। টাইমই পাই নি কথা বলার। চারিদিকে বাবার এত ইম্পরট্যান্ট ডকুমেন্টস ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল টেবিলে, ঘরে, কম্পিউটারে। আর আমি তো, বুঝতেই পারছেন, এর কিছুই বুঝিনা। হিস্ট্রি তে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করে ব্যবসা শুরু করব ঠিক করেছিলাম। তো বাবা বললেন কোথাও যেতে হবে না। আমাদের এই বাড়ির জমিতেই একটা একতলা বাড়ি বানিয়ে দিলেন। দুটো ডবল বেড রুম আছে উইথ এটাচড বাথ। প্রথমে বাড়িভাড়া দিতাম। তারপর পয়সার তাগিদে হোটেল খুলে দিলাম। বেনারসে তো আর টুরিস্টের অভাব নেই!”
এতক্ষণে ঘরের এই উঁচু বক্স টেবিল ও চেয়ারটার মানে বুঝলাম। ওটা সম্ভবত হোটেলের record-keeping পারপাসে তৈরি রিসেপশন ডেস্ক।
-“আর টুরিস্টদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা?” আমি প্রশ্ন করলাম।
-“সে ওনারা চাইলে ভজনলাল করে দেয়। তার জন্য আলাদা যা নেওয়ার আমি নিই। তো যেটা বলছিলাম, বাবা মারা যাবার পর সে পাবলিশাররা তো একসঙ্গে বাড়িতে এসে হুজ্জতি করতে শুরু করল। কাদের কাদের সঙ্গে বাবার কি কি বুক চ্যাপ্টার বা পেপার লেখার কথা হচ্ছিল তা তো আমি কিছুই জানতাম না। তাই বাধ্য হয়ে আমি শ্রীধর কাকুকে ফোন করলাম। উনি ছিলেন বাবার বেস্ট ফ্রেন্ড কাম কলিগ। ডক্টর শ্রীধর বোস। বাবার সাথে ওই একই ইনস্টিটিউটে ছিলেন। লাস্ট ইয়ার রিটায়ার করলেন। এখন কলকাতায় নিজের বাড়িতে আছেন। তো সব শুনে উনি ওনার কর্মজীবনের পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট, শম্ভুনাথ বাবুকে দিন পনেরোর জন্য পাঠানোর কথা সাজেস্ট করলেন। এই দিন পাঁচেক হ’ল উনি এসেছেন।”
-“তো উনি থাকছেন কোথায়?” আমি প্রশ্ন করলাম।
-“একতলায় ভজনলালের ঘরের পাশের গেস্টরুমে থাকছেন। ওনার কাজ অনেকটাই হয়ে গেছে প্রায়। কমপ্লিট হয়ে যাওয়া আর্টিকেল আর বুক চ্যাপ্টারগুলোকে পাবলিশারদের হাতে তুলে দিয়ে, ইনকমপ্লিট কাজগুলোকে কম্পিউটারে সেভ করে আমাকে বুঝিয়ে দিয়ে চলে যাবেন।”
-“তো উনি কি আপনার পূর্ব পরিচিত?”
-“না না, তবে অভিজ্ঞ মানুষ। আর তার চেয়েও বড় কথা শ্রীধর কাকু পাঠিয়েছেন। আমার কাছে হি ইস নেক্সট টু মাই ফাদার। এসব ব্যাপারে ওনার ছাড়া কার এডভাইস নেবো বলুন!”
-“না না আমি সেভাবে বলিনি, আসলে এত ইম্পরট্যান্ট ডকুমেন্ট তো!”
-“আসলে কাকুকে কল করেছিলাম দুটো কারণে। এই দিনদশেক আগে রাত দুটো নাগাদ বাড়িতে চোর এসেছিল। সামনের ঘরের জানালার গ্রিল কাটার চেষ্টা করেছিল। ভজনলাল আওয়াজ পেয়ে ঘুম থেকে উঠে সামনের ঘরের দিকে যেতেই চোর ব্যাটা পালিয়ে যায়!”
-“তো পুলিশে খবর দেননি?”
-“না, কাকু বারণ করলেন। বললেন, ছিঁচকে চোর। ভয় পাওয়ার কিছু নেই, ও আর আসবে না।”
-“তখন আপনার হোটেলে কি টুরিস্ট ছিল?”
-“হ্যাঁ। দুটোই তো রুম, তাই সারা বছরই ভর্তি থাকে। তবে তখন যারা ছিল এখন তারা আর নেই। এখন দুটো রুমেই একজন করে লোক থাকছে। একজন আপনাদের কলকাতার শশাঙ্ক মাইতি, উনি কাল এসেছেন। আরেকটা রুমে আজ সকালে এলেন অভিরাম কুলকার্নি, গোয়ালিয়রের লোক, তবে থাকে কাঠমান্ডুতে। ওখানে কি সব ওষুধের ব্যবসা ট্যাবসা আছে বললেন।”
-“আর মিস্টার মাইতি? উনি কি কাজ করেন?” প্রশ্ন করল নীল।
-“তা জানি না… ওনার সঙ্গে অত কথা হয়নি। আসলে অভিরামবাবু নিজে থেকেই বললেন এসব, তাই জানতে পারলাম।”
-“আচ্ছা কিছু মনে না করলে, একবার আপনার বাবার স্টাডি রুমটা ঘুরে দেখা যায়?” আমি প্রশ্ন করলাম।
-“ওহ শিওর শিওর।”
আমাদের শরবত খাওয়া হয়ে গিয়েছিল। গ্লাসটা টেবিলের ওপর রেখে ভদ্রলোকের সঙ্গে উঠে পাশের রুমে গেলাম।
শম্ভুনাথ বাবু উপরের কাঠের দেওয়াল আলমারি থেকে হাত বাড়িয়ে কিছু একটা ফাইল বের করছিলেন। আমাদের ঘরে ঢুকতে দেখে ফাইল হাতে আমাদের দিকে ঘুরে দাঁড়ালেন। ভদ্রলোকের রং ফর্সা, হাট্টাকাট্টা ফিগার, হাইট প্রায় ৬ ফুট। মুখে ট্রিম করা হালকা চাপ দাড়ি আর গোঁফ। চোখে চশমা আর চশমার কাচের পেছন থেকে দেখলাম চোখের মণিগুলো ঘোলাটে সবুজ। ভদ্রলোকের বয়স আন্দাজ আমার মতই হবে ৩০-৩২ এর মধ্যে, কিন্তু এই বয়সে ওনার চুলে ইতিমধ্যে ভালোই পাক ধরেছে। অতিরিক্ত টেনশন আর লিভার প্রবলেমে এরকমটা হয় শুনেছি। ভদ্রলোকের পরনে ফুলহাতা চেক শার্ট এবং ব্লু জিন্স।
-“ত্রিপাঠিজি, দেখিয়ে ইয়ে দোনো প্রফেসর সাহাব লোগ আয়ে হে পিতাজি কে স্টাডি ভিজিট করনে।”, শম্ভুনাথ বাবুকে বললেন ভাস্কর বাবু।
পরস্পর নমস্কার বিনিময় করে শম্ভুনাথ বাবুকে নীল বলল, “আপনার কাজ কতদূর?”
মুখে বেনারসি পান নিয়ে মুখ খুললেন শম্ভুনাথ বাবু, “লখনৌ কা রহনেওয়ালা হুঁ সাহাব, বাংলা সামাঝনে মে থোরা তাকলিফ হোতা হ্যায়।” ওনার পানের গন্ধে গোটা ঘর সুগন্ধে ভরে গেল।
আমি বললাম, “আপকা কাম অর কিতনা বাকি হ্যায়?”
-“সব কাম ইধার উধার ফ্যায়লা থা আইসে, কে জোড়না মুশকিল হো যা রাহা থা। But now it’s done. অভি সির্ফ কমপ্লিট অর পার্শিয়ালি কমপ্লিট কামকো সেগ্রিগেট করনা অউর হ্যান্ড রিটেন কামকো কম্পিউটার মে টাইপ কর না বাকি হ্যায়।”
ডক্টর উপাধ্যায়ের স্টাডিটা এতক্ষণে ভালোভাবে পরিস্কার হ’ল। স্টাডির একটা দেওয়ালে কাঠের তৈরি পুরনো দেওয়াল আলমারি। দেওয়াল আলমারিতে উপর-নিচ মিলিয়ে চারটে চারটে করে আটটা খোপ করা। প্রত্যেকটা খুব আলাদা করে লক করা যায়। আটটা খোপের দরজায় পরপর চার বছর করে ডিউরেশন প্রিন্ট করা কাগজ আঠা দিয়ে আটকানো আছে; 1989-1992, 1993-1996, 1997-2000, 2001-2004, 2005-2008, 2009-2012, 2013-2016, 2017-2020। শম্ভুনাথ বাবুকে প্রশ্নটা করাতে উনি বললেন এটা উনি করেছেন নিজের আর ভাস্কর বাবুর সুবিধার জন্য। এই খোপ গুলিতে ডঃ উপাধ্যায়ের সারা জীবনের রিসার্চের কাজগুলো ইয়ার ওয়াইজ সেগ্রিগেট করা আছে। ডক্টর উপাধ্যায়ের আর দুটো দেওয়াল জুড়ে আছে কাচের দরজাওয়ালা কাঠের চারটে বড় বড় আলমারি। ফাঁকা দেওয়ালির সামনে রয়েছে দুটো বড় উঁচু টেবিল। তাতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অনেক লুজ পেজ, কিছু ডায়েরি, কিছু খাতা, ভাইরোলজির কিছু বই, কিছু দেশি-বিদেশী জার্নাল, কিছু পেন পেন্সিল, কিছু মার্কার, পেপার ওয়েট ইত্যাদি। দেওয়ালে টাঙানো আছে ডক্টর উপাধ্যায়ের নিজের আঁকা self-portrait। ভাস্করবাবুর সঙ্গে মোবাইল নাম্বার এক্সচেঞ্জ করে দেখলাম ঘড়িতে ৫:৩০।

ছটা নাগাদ অটো থেকে নামলাম গাদোলিয়া চকে। এখন শীতকাল, বেলা ছোট। তাই সন্ধ্যে ছটায় শুরু হয় গঙ্গা আরতি, যেটা গরমকালে হয় সাতটায়। জোরে হেঁটে পাঁচ মিনিটে পৌঁছলাম দশাশ্বমেধ ঘাট। গঙ্গা আরতি ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। ভিড় ঠেলে সামনে পৌঁছে দেখলাম ঘাটে লোকে লোকারণ্য। যেখান থেকে গঙ্গায় নামার সিঁড়িটা শুরু হয়েছে সেই প্রশস্ত মেঝেতে সাতটি নিচু তক্তা। তার উপর দাঁড়িয়ে সাতজন অল্পবয়সী পুরোহিত ছেলে হাতের চামর চতুর দিকে ঘুরিয়ে পূজা করছে। তাদের পরনে বাসন্তী রঙের অঙ্গ বস্ত্র এবং ধুতি। পিছন থেকে মাইক্রোফোন হাতে মন্ত্র উচ্চারণ করছে আরেকজন অল্পবয়সী পুরোহিত ছেলে। সাতজন পুরোহিত এবার চামর ছেড়ে হাতে নিল এক দেড় ফুট লম্বা পিতলের প্রদীপ, যার লেলিহান শিখার মাথায় পিতলের সাপের ফনা, যার লেজটা হাতলে এসে জুড়েছে। ঘাটের উপরে, সিঁড়িতে, এমনকি পাড়ে বাধা নৌকা গুলোর মধ্যে লোক ভিড় করে বসে আরতি দেখছে। দেশী-বিদেশী কত রকমের কত জাতির লোক। কেউ ফটো তুলছে, কেউ হাতজোড় করে আছে, কেউ ধূপ ধুনো প্রদীপ দিয়ে নিজেরাও পূজা করছে। ৭ জন পুরোহিত মা গঙ্গা এবং সব মানুষদের দিকে দেখিয়ে বিভিন্ন কায়দায় প্রদীপ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে আরতি করছে। তাদের পিছনে বসে ৪-৫ জনের একটা দল হারমোনিয়াম, তবলা, ঢোল আর খঞ্জনি বাজিয়ে বাবা ভোলেনাথ আর মা গঙ্গাকে নিয়ে গান ধরেছে। নানা রকমের ধূপধুনোর গন্ধ, গান আর কাঁসরঘন্টার শব্দে আকাশ বাতাস মেতে উঠেছে। ঘড়ির দিকে তাকাতে একেবারেই ভুলে গেছি। মাটির প্রদীপ বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা করে। অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে গঙ্গার জলে এতগুলো প্রদীপ একসাথে ভাসতে দেখে। আরতি শেষে একসঙ্গে এত লোককে জড়ো হয়ে কোনদিন বলতে শুনিনি, “হর হর মহাদেব!”

আধঘন্টা ধরে আরতি চলার পর ভিড় ফাঁকা হতে দেখতে পেলাম পাঁচ ফুট দু’তিন ইঞ্চি হাইটের একজন বছর চল্লিশেক বয়সের ভদ্রলোক শিবের মুখ আঁকা গেরুয়া ফুলহাতা শর্ট পাঞ্জাবি আর একটা অফ হোয়াইট মাল্টিপকেট কার্গো প্যান্ট পরে একটা লোকাল ছোকরাকে দিয়ে নিজের ভিডিও শুট করাচ্ছেন। ভদ্রলোকের বডিতে আড়াআড়িভাবে ঝুলছে একটা ছোট কালচে নীল স্লিং ব্যাগ। ভদ্রলোক গঙ্গার দিকে পিছন করে জলে পা ডুবিয়ে পাড়ের দিকে মুখ করে ভিডিওতে কথা বলছেন আর ছেলেটি চারটি সিঁড়ির ওপর থেকে তার ভিডিওটি মোবাইলে রেকর্ড করছে। ভদ্রলোককে পেছন থেকে ধরে আছে আরেকটি ওর চেয়েও ছোট লোকাল বাচ্চা ছেলে। এই বাচ্চাগুলোই কিছুক্ষণ আগে নৌকা থেকে ডাইভ মারছিল। ভদ্রলোকের গায়ের রং মাঝারি, বডি স্ট্রাকচার একটু মোটা তার সাথে হাল্কা ভুঁড়ি আছে। মুখ আর বডির মাঝখানে ভদ্রলোকের গলা আলাদা করে খুঁজে পাওয়াই যাচ্ছেনা। মুখটা থলথলে মেদ যুক্ত, ক্লিন শেভড, তাতে থ্যাবড়ানো বড় নাক। সবচেয়ে আশ্চর্য দেখতে ভদ্র লোকের কপালখানা, উঁচু এবং প্রশস্ত। মাথার চুলের ডেনসিটি এতটাই কম যে কপালখানা মাথার one-third অবধি উঠে গেছে। মাথায় যা চুল অবশিষ্ট আছে, তাও আবার ব্যাক ব্রাশ করে আঁচড়ানো। কথা বলার সাথে সাথে দেখতে পাচ্ছি ভদ্রলোকের ভ্রুজোড়া চোখ থেকে অনেক উঁচুতে উঠে যাচ্ছে, আর চোখ দুটো হয়ে যাচ্ছে বড় গোল গোল। আরেকটা লক্ষণীয় জিনিস, ভদ্রলোকের ঠোঁট আর নাকের মাঝের অংশটা হালকা উঁচু হওয়ায়, কথা বলার সময় ভদ্রলোকের নিচের পাটির দাঁত বাদে ওপর পাটির দাঁত একেবারেই দেখা যাচ্ছে না।
চায়ের ভাঁড়টা ফেলে দিয়ে নীল বলল, “চলো তো দেখি রগড়টা কি হচ্ছে!”
দুটো ধাপ নামতেই শুনতে পেলাম ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ভদ্রলোক বলছেন, “এই সেই দশাশ্বমেধ ঘাট… যে ঘাটে দশটি অশ্ব, ইয়ে মানে টেন হর্সেসকে যজ্ঞে আহুতি দিয়ে মহাদেব বিশ্বনাথকে, মানে ইয়ে আর কি, বাবা বিশ্বনাথকে ‘ইউ আর মোস্ট ওয়েলকাম’ বলে স্বাগত জানিয়েছিলেন স্বয়ং ভগবান বিষ্ণু।”
পিছন থেকে বাচ্চা ছেলেটা ওনার পাঞ্জাবি ধরে টান মেরে ক্যামেরা থেকে নিজেকে গার্ড করে চাপা গলায় বলল, “বিষ্ণু না হো চাচা, ব্রম্ভা জি! ব্রম্ভা জি!”
বেশিক্ষণ নিজের হাসি চেপে রাখতে না পেরে আমি আর নীল পিছন ঘুরে সিঁড়ি দিয়ে কোনরকমে দম বন্ধ করে ঘাটে উঠে হো হো করে হাসিতে লুটিয়ে পড়লাম।

সকাল থেকে একটু রেস্ট নেওয়া হয়নি। তাই হোটেল ফিরে গিয়ে তাড়াতাড়ি ডিনার করে নিলাম। স্পেশাল বেনারসি নিরামিষ থালি। ঠিক হলো ভোর সাড়ে চারটেতে দশাশ্বমেধ ঘাট যাব। এখানে লোকে বলে নাকি বেনারসকে যদি সত্যিই উপলব্ধি করতে হয়, তাহলে ঘাটের ধারে সুবাহ-এ-বানারাস, মানে বেনারসের সকালের একবার সাক্ষী হতেই হবে। তাই ডিনার করে নটার মধ্যে শুয়ে পড়লাম, ফোনে ভোর চারটের এলার্ম সেভ করে।


চলবে …

Author: admin_plipi

18 thoughts on “বেনারসের ঘাট গোয়েন্দাগিরির স্টার্ট [প্রথম পর্ব ]

  1. দারুন। গোয়েন্দাগিরি না ভ্রমন কাহিনী? বেনারসের দারুন মনজ্ঞ বিবরণ।

  2. এখনো গল্প স্টার্ট হয়নি। মনে গোয়েন্দাগিরি স্টার্ট হয় নি।

  3. এখনো পটভূমি চলছে। ছবি তা তো হিন্দী সিনেমার পোষ্টার। চমকপ্রদ। গল্পটা জমলেই হয়

  4. খুব ভালো লাগল শুরুটা। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

  5. পড়ে ভীষণ ভালো লাগছে।। ইন্টারেস্ট বাড়ছে।।। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম। লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ।।🤝

  6. গল্পের নামটা বেশ আধুনিক।
    খুউব সুন্দর পোস্টার।
    সর্বোপরি, গল্পের লেখাও খুব মানানসই হয়েছে। রহস্যের অপেক্ষায় থাকলাম, পরের পর্বের দিকে চেয়ে….

  7. গোয়েন্দা গল্পে কৌতুক বেশ লাগছে। বেশ সিনেমা সিনেমা বেপার। পরের পার্ট টিও পড়েছি। মোটের ওপর বলছি। দারুন গল্প। কিন্তু জায়গায় জায়গায় অবাঞ্চিত কিছু আলোচনা একটু কম হলে বেশি ভালো হতো।

Leave a Reply

Your email address will not be published.