Continue Reading

আমার ছেলেবেলার প্রেম

  চট্টগ্রামের চৌধুরীহাট ষ্টেশনের অদূরে পাহাড়ঘেঁষা ফতেহাবাদ গ্রামে আমার ছেলেবেলা কেটেছে। সে সময়ে আমার খেলার সাথী ছিল আমার থেকে দু’বছরের বড় আমার ছোড়দি আর গ্রামেরই আরো কয়েকজন আমাদের সমবয়সী ছেলেমেয়ে। তাদের মধ্যে আমাদের পাশের বাড়ির দুই বোনও ছিল। বড়বোন ছিল ছোড়দির বন্ধু। কথা কম বলত, বাড়িতেই বেশি সময় থাকত, মায়ের…

Continue Reading

সম্পর্ক

      বহুদিন পর দেখা আরুহি আর সূর্য্য-র৷ -কিরে, ভালো আছিস তো? বহুদিন পর এই প্রশ্নটা শুনে সূর্য্য নিজের মনেই বলে ওঠে মেয়েটা আজও বদলায়নি, মুখে শুধু বলে -হ্যাঁ, ভালো আছি৷ আর তুই? -আছি এক রকম৷ -খারাপ নেই সেটা বুঝতেই পারছি, তাও একবার জিজ্ঞেস করলাম ভদ্রতার খাতিরে৷ -তোর আমার…

Continue Reading

না বলা কথা

  দেবারতির মনে আজ একটা চাপা টেনশন কাজ করে চলেছে সারাদিন। স্কুলে ক্লাস নেওয়ার ফাঁকে ফাঁকে যেন চিন্তাটাকে চেষ্টা করেও ভুলতে পারছে না সে। টিফিন এর সময় পাপিয়াদি জিজ্ঞাসাও করলেন, “তোমার কি হয়েছে বল তো, দেবারতি? বাড়ীতে কোন অশান্তি?” “ক‌ই, কিছু না তো”, বলে এড়িয়ে গেল দেবারতি। কিন্তু কমনরুমের অনেকেই…

Continue Reading

তোজোর ভাষা দিবস

  অনবরত কলিং বেল বাজতেই শেলী ঘরের ভিতর থেকে বলতে লাগল, “আসছি আসছি তোজো, এতবার কলিং বেল বাজালে নষ্ট হয়ে যাবে তো! উফফ্।” দরজা খুলতেই তোজো এক ছুটে ঘরে ঢুকেই ঠাম্মির কোলে গিয়ে বসল। তারপর দুজনে কিছুক্ষণ ফিসফিস। শেলী এবার চোখ পাকিয়ে ছেলের দিকে তাকিয়ে বলল, “তোজো, যাও ফ্রেশ হয়ে…

Continue Reading

অঙ্গীকার

    বিমলা নিষ্পলক চোখে  চেয়েছিল ঘটমান ঘটনার দিকে। বৃদ্ধাশ্রমের অ্যাটেনডেন্ট লোকগুলো বের করে বাইরে নিয়ে আসছে  নিথর দেহটাকে। সজল চোখে মায়ের দেহটার দিকে তাকিয়ে আছে একমাত্র ছেলে বিকাশ। প্রচুর ফুল দিয়ে সাজিয়ে আনা হয়েছে স্বর্গরথটিকে।  কিন্তু বিমলার মনের অস্বস্তি যাচ্ছেনা। অ্যাটেনডেন্ট ছেলেগুলো করছেটা কি? হ্যাঁ, এই তো, তোষকটাই তোলার…

Continue Reading

একাত্মতা

      কিছুদিন থেকেই ইউনিভার্সিটি  থেকে বাড়িতে ফিরতে ঝিনুক দেরী করছিল। যদিও দেরী করাটা ইচ্ছাকৃত ছিল না। সেমিনার চলছে। বিকেলের দিক থেকেই প্রায় প্রতিদিন আকাশ কালো করে মেঘ জমছিল, কিন্তু বৃষ্টি টা হব হব করেও হচ্ছিল না। সেদিনই যে হঠাৎ অমন করে শহর ভাসিয়ে ঝোড়ো  হাওয়ার সাথে বৃষ্টি নামবে…

Continue Reading

বসন্ত বিলাপ

    ‘আমার পরাণ যাহা চায় তুমি তাই, তুমি তাই গো’- এই গানটা গাইলে সুমির মনে কত কি  যে ঘোরাফেরা করে তা আজ অবধি উত্তর পাওয়া হলো না তার। আর পাবেই বা কি করে? সে বড় চুপচাপ, নাকি গোমড়ামুখো! নাহ্, আজ আর গান গাইতে ইচ্ছে করছে না তার, ‘বাতাসে বহিছে…

Continue Reading

হলুদ পাঞ্জাবি ও বাসন্তী শাড়ি

  “এ কি রে বাবিন! কি করেছিস এটা? পুরো ঘরে আলমারির জামা কাপড় ছড়ানো ছিটানো কেন? মায়ের কাজ বাড়াতে খুব ভালোবাসিস, তাই না? দাঁড়া আজ তোর হচ্ছে!” — “মা আমি সেই হলুদ রঙের পাঞ্জাবিটা খুঁজছিলাম, যেটা দাদা গত বছর পুজোর সময় কিনেছিল। প্লিজ মা পাঞ্জাবিটা খুঁজে দাওনা। ওটা আমার চাই-ই…

Continue Reading

আবিষ্কারের নেশায়

      ছোটবেলা থেকেই দাদার আর আমার অজানাকে জানার অদম্য আগ্রহ ও ইচ্ছে ছিল। ১৯৭৭ সাল- বাবা তখন দার্জিলিং তাগদার রেঞ্জ অফিসার ছিলেন। ’৭৭ থেকে ’৮১ সাল পর্যন্ত বাবা ছিলেন দার্জিলিং এ।  দার্জিলিং জোড়বাংলো থেকে ১৬ কি.মি. ভেতরে আরও উপরে তাগদাবাজার। তাগদা যেতে প্রথমে পড়বে তাগদা অর্কিড সেন্টার, তারপর…

Continue Reading

পলাশ সাক্ষী

      স্কুলের সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষের শুভারম্ভের দিন ১০ই ফেব্রুয়ারি আর  বিদ্যার দেবী সরস্বতী’র আরাধনা একই দিনে– এমন সমাপতন ক্কচিৎ দেখা যায়, শোনা যায়। সারদা নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভাগ্যাকাশে এমন একটি দিন আসায়  ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মচারী– সকলেই ভীষণ আপ্লুত। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি থেকে শুরু করে নাইন-টেন, ইলেভেন-টুয়েলভের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রায় দিন…

Continue Reading

জন্মদিন

    বিকালের চায়ের কাপ হাতে নিয়ে টিভির পর্দায় চোখ রেখে অভিরূপ তখনো বসে, এমন সময় মোবাইলটা বেজে উঠল। পিনাকেশ বাবুর ফোন। “দাদা, শুনেছেন নিশ্চয়ই খবরটা!” “হ্যাঁ, এখনো টিভির সামনেই। এই মাত্র ভাবছিলাম আপনাকে ফোন করব একটা।” অভিরূপের গলায় কেমন যেন একটা বিষন্নতার সুর। “এ কি, অভিরূপদা, গলাটা এমন শোনাচ্ছে…

Continue Reading

দিনের শেষে

      -“হ্যালো পরি, কিরে কোথায়, রাত ১১টা হয়ে গেল!” -“হ্যাঁ, মা একটু দেরী হয়ে গেল, অফিসের ডিনার পার্টি এই শেষ হল। ঘন্টা খানেক এর মধ্যে পৌঁছে যাব। তুমি প্লিজ চিন্তা করো না, খেয়ে নিও।” -“কিন্তু এত রাতে তুই একা একা…” -“আরে চিন্তা করছো কেন? অভীক আর সন্দীপ আছে…

Continue Reading

হেমন্তিকা

    ঘড়িতে যখন ভোর ৫:৩০, ঠিক তখনই অ‍্যালার্ম ক্লকের তীব্র আর্তনাদে ঘুম ভাঙে মধুছন্দার। এটাই রোজকার রুটিন। ঘুম চোখেই বিছানার পাশে রাখা ছোট্ট পাস টেবিলটা থেকে হাতড়ে নিয়ে ঘড়িটা কে চুপ করায়। আজও এর অন্যথা ঘটলো না। আড়মোড়া ভেঙে চোখ মেলতেই দেখে নিল সে সৌরভকে। বাচ্চা ছেলের মতো হাত-পা…

Continue Reading

আশ্রয়

    ছেলেটা কেঁদেই চলেছে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে। পাশে এক বৃদ্ধার রক্তাক্ত দেহ।  কিছুক্ষণ আগেই রাস্তা পার হতে গিয়ে একটা বেপরোয়া চার চাকার ছোট গাড়ি ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে গেছে। ছেলেটা পেছনে ছিল বলে বরাত জোরে বেঁচে গেছে। বৃদ্ধা গোঙাতে গোঙাতে ওখানেই পড়ে রইলো। চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে ছেলেটা আশেপাশের কয়েকজনকে…

Continue Reading

নিবারণের সংসার

      সুরমা আর নিবারণের অভাবের সংসার, যাকে বলে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়, তবুও দুজনের সুখের সংসার। সুরমা নিঃসন্তান, এই কষ্ট টা সুরমাকে ভিতরে ভিতরে কুরে খায়। কিন্তু আজ অবধি নিবারণ কখনো অভিযোগের আঙ্গুল তার দিকে তোলে নি, সেটা আরও বেশি পীড়া দেয়। মফস্বলের একটি শহরে তাদের বাস। এক…