নির্দোষ মজা: লেখা- শুভাশীষ দে
এই গল্প মোবাইল ফোনের জন্মের আগে কার।
সন্ধ্যা ৭:২৫ এর কাটোয়াগামী হাওড়া-কাটোয়া লোকাল। ট্রেনের শেষ কামরা। অবশ্য হাওড়া থেকে ট্রেনে উঠতে গেলে এটাই সবার প্রথমে পড়ে। স্বভাবতই এখানেই সবথেকে বেশি ভিড়। ট্রেনে ঢুকবার মুখে দরজার কাছে তো এখন আর মাছি গলারও উপায় নেই। যারা একটু প্রথমে ঢুকে সিটের কাছে ভেতরে চ্যানেলে যেতে পেরেছে তারা বিরক্ত মুখে দাঁড়িয়ে। সিটে বসা যাত্রীদের কেউ কেউ তাস খেলায় ব্যস্ত, কেউ বা টিফিন কৌটো থেকে মুড়ি বার করে চিবচ্ছে। কেউ কেউ দলবদ্ধভাবে বসে বিভিন্ন বিষয়ে সরস আলোচনা করছে, কেউবা চোখ বুলিয়ে নিচ্ছে সকালের না পড়া খবরে কাগজের দিকে, কেউ কেউ বসে বসে ঢুলছে, ট্রেনের জানলার শিকে মাথা রেখে হাঁ করে ঘুমোচ্ছে কেউ কেউ, বাকিরা বিরস বদনে চুপচাপ বসে আছে, অপেক্ষা করছে নিজের গন্তব্যের।আমি দাঁড়িয়েছি দরজার কাছে। আমার সামনেই একজন টাকমাথা, মধ্যবয়স্ক ভদ্রলোক। পরনে দামি পোশাক। হাতে রোলেক্সের মহার্ঘ ঘড়ি। ডান হাতের আঙুলে তিন তিনটে সোনার আংটি। গায়ে দামি আফটার শেভ লোশন এর গন্ধ ভুরভুর করছে।মেদবহুল ভুঁড়ি। ভরাট শিশুসুলভ মুখে একটা নিষ্পাপ চাউনি। হাতে গিফটের কাগজে মোড়া একটা বিরাট প্যাকেট। মনে হচ্ছে কোথাও নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে চলেছেন। দেখেই মাথায় একটু প্ল্যান খেলে গেল। একটু নির্দোষ মজা করলে কেমন হয়?
ওহো, আমার পরিচয় তো দেওয়া হয়নি। আমি ব্যান্ডেল নিবাসী শ্রীযুক্ত রসিকলাল সূত্রধর। কি কারনে এবং কোন পুণ্য লগ্নে যে আমার স্বর্গীয় পিতৃদেব আমার নাম রসিকলাল রেখেছিলেন তা জানি না।কিন্তু আমি এই নামের সম্মান বজায় রাখার জন্য বরাবরই সক্রিয়। অর্থাৎ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে কতগুলো নির্দোষ মজা আমি প্রায়ই করে থাকি। হ্যাঁ, সেই ছোটবেলা থেকেই। যেমন ধরুন বাড়ির উঠোনের পাশে এক কোণে আমাদের পোষা কুকুরটা শুয়ে আছে। পাশেই দেখলাম বেশ কয়েকটা পিঁপড়ের গর্ত। সকাল বেলা উঠে ব্রেকফাস্ট করছি পাউরুটি,মাখন, মিষ্টি দিয়ে। কি খেয়াল হলো উঠে গিয়ে ঘুমন্ত কুকুরের সারা গায়ে ঢেলে দিয়ে এলাম রসগোল্লার রস। তারপর সেখান থেকে মাটিতে পড়ে যাওয়া রসগোলার রসের ধারা পৌঁছে দিতাম পিঁপড়েগুলোর গর্ত পর্যন্ত। তারপর কি হলো তো বুঝতেই পারছেন? প্রতি রবিবার বাড়িতে যে ভিখারি আসে একদিন তাকে কথায় কথায় শোনালাম এখান থেকে প্রায় পাঁচ মাইল দূরে এক ধনী ভদ্রলোক (তিনি আমার বাবার বন্ধু, তাঁর বাড়ি বাবার সঙ্গে বেশ কয়েকবার গেছি ), তিনি তাঁর স্বর্গীয়া মায়ের বাৎসরিক প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে প্রচুর মানুষকে ভোজন করাচ্ছেন।ব্যাস, ওই ভিখারিটি পচা ভাদ্রের রোদ মাথায় মাথায় নিয়ে ছুটলো পাঁচ মাইল দূরে ওই ভদ্রলোকের বাড়ি ভুরিভোজের আশায়। সেখানে গিয়ে যখন সে দেখবে ওই ভদ্রলোকের মা এখনো বহাল তবিয়তে বর্তমান, তখন তার মুখের কি ভাব ফুটে উঠবে তা চিন্তা করে আমার নিজের নির্দোষ মজায় নিজেই হেসে উঠতাম।
এক সময় স্কুলে ভর্তি হলাম। সেখানে কি আমি আমার অভ্যাস ছাড়লাম? মোটেও না। যদি রসিকতাই ছেড়ে দিলাম তবে আমার নাম আর রসিকলাল কিসের? তাই সেখানেও আমার কার্যকলাপ পুরোদমে চলতে লাগলো। যেমন ধরুন একই বেঞ্চে আমার পাশের সহপাঠী কোন কারনে বাথরুমে গেছে। এই সুযোগে সবার চোখ এড়িয়ে তার ব্যাগ খুলে তার ফাউন্টেন পেনের কালির সবটাই তার বইয়ের সেই অধ্যায়ের পাতায় ছিটিয়ে দিতাম, যে অধ্যায়টি তখনই পড়া হবে। অথবা তার হোমওয়ার্কের খাতা খুলে যে পাতায় তার সেদিনের হোমওয়ার্ক করা, সেই পাতাগুলো আস্তে করে ছিঁড়ে নিতাম। মাস্টারমশাইদেরই কি ছেড়ে দিতাম? তাঁদের জন্যও অন্য ব্যবস্থা ছিল। সেজন্য তক্কে তক্কে থাকতে হতো। যেমন ধরুন, মাস্টারমশাইদের ঘরে মাস্টারমশাইদের জন্য চা নিয়ে আসে যে ব্যক্তি, তাকে হয়তো একদিন বললাম হেড স্যার ডাকছেন, খুব জরুরী দরকার। সে যখন তার চায়ের কেটলি রেখে দুরু দুরু বুকে হেড স্যারের ঘরে ঢুকতো তখন আমরা মনের সুখে কেটলির চায়ে মিশিয়ে দিতাম নুন কি লঙ্কার গুঁড়ো। কোন কোন দিন স্কুল কামাই করে কোন টেলিফোন বুথ থেকে রুমালে মুখ চেপে স্কুলের টেলিফোন নম্বরে ফোন করতাম বিশেষ একজন স্যারকে ( যাঁর বাড়ি স্কুল থেকে অনেকটা দূরে,ট্রেনে চেপে আসতে হয়) বলার জন্য যে তাঁর স্ত্রীয়ের খুব শরীর খারাপ, হাসপাতালে পাঠাতে হবে। বলাই বাহুল্য তাঁর স্ত্রী হয়তো তখন নিজের বাড়িতে দুপুরের রান্নায় ব্যস্ত।
স্কুলের পার্ট শেষ করে কলেজে উঠেও আমার অভ্যাসের ধারা পুরোদমেই বজায় থাকলো। হয়তো কোন বোকা বোকা ভালো মানুষ সঙ্গেসহপাঠীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করে তাকে কোলড্রিংকস খাওয়াতে নিয়ে যাওয়ার ছলে তার কোল্ড্রিংসের বোতলে মিশিয়ে দিতাম র হুইস্কি । অথবা কোন সিধাসাধা, আপাত প্রেমিক সহপাঠীর হাতে কৌশলে পৌঁছে দিতাম কলেজের সব থেকে সুন্দরী মেয়ের নাম নিয়ে লেখা তার প্রেমপত্র।কর্মক্ষেত্রেও আমার এই স্বভাবের পরিবর্তন হলো না। হয়তো পাশের সিটের কোন সহকর্মীর বাথরুমে যাওয়ার সুযোগে তার টেবিলে থাকা কোন গুরুত্বপূর্ণ ফাইল এমন জায়গায় লুকিয়ে ফেলতাম যে এই ফাইল খোঁজার জন্য সারাদিন হয়রানি, বসের ধমক সবকিছুই তার জুটতো। অফিসের নেপাল বাবু প্রায়ই বিভিন্ন ব্যাংক থেকে লোন নেন। একদিন অফিসের মূল ঘর লাগোয়া আমাদের একটা ছোট ঘরের ( যাকে আমরা টেলিফোন ঘর বলতাম) এক কোণে থাকা টেলিফোনে রিং হচ্ছে। রিসিভার তুলে শুনি সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া থেকে ফোন। নেপাল বাবুকে চাইছে। শুনেই মাথায় একটা কুবুদ্ধি খেলে গেল। মুখটা যতখানি সম্ভব গম্ভীর করে নেপালদার কাছে এসে কাঁচুমাচু মুখ করে বললাম –
‘ নেপালদা, আপনি কোন কোন ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছেন?’
-‘ সে তো অনেক ব্যাংক থেকেই লোন নিই। কেন বল তো?’
গলার স্বর যতটা সম্ভব খাটো করে কপালে প্রচন্ড চিন্তার ভাঁজ এনে নেপালদাকে প্রায় ফিসফিসিয়ে বললাম :
-‘নেপালদা,আপনি কি করেছেন? সি. বি. আই থেকে ফোন এসেছে। আপনাকে এক্ষুনি ডাকছে।’
-‘সি. বি. আই? আমাকে? কেন?’ গলার স্বর শুনে মনে হচ্ছে নেপালদের এক্ষুনি হার্টফেল করবে।
-‘ তা বলতে পারব না। আপনার নাম করে বলল ডেকে দিতে। যেন এক্ষুনি এসে কথা বলেন। জান আমি ফোনটা অন হোল্ড রেখে দিয়েছি। আর হ্যাঁ আমি কাউকে কিছু বলিনি। আপনি আগে কথা বলে আসুন।’
আমার কথা বলা পুরোটা শেষই হবে শেষও হয়নি নেপালের রকেটের মতো ছুটে বেরিয়ে গেলেন টেলিফোন ঘরের দিকে।
আমি তখন ভেতরে ভেতরে হেসে লুটোপুটি খাচ্ছি। ফিরে এসে নেপাল দা আমাকে ধরলে আমি কি জবাব দেব তা আগে থাকতেই জানা আছে। যতটা সম্ভব নিরীহ মুখ করে বলবো :
‘আমিতো সিবিআই মানে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন বলিনি! সি-বি-আই মানে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া!’
তা এখন এই ট্রেনের ভদ্রলোকের এক্ষেত্রেই বা তার ব্যাতিক্রম হবে কেন? ট্রেনের এই আপাত নিরীহ ভদ্রলোককেই আমি আমার নির্দোষ মজার এখনকার খোরাক হিসেবে ধরে নিলাম। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আমি একটু সরে তাঁকে দাঁড়াবার জায়গা করে দিলাম। তারপর আস্তে আস্তে শুরু হলো তার সঙ্গে আলাপ।
-‘ও:! কি গরম দেখেছেন? তার ওপর এই ভিড়!’
-‘ তা যা বলেছেন। আর কেউ সরছেও না। আপনি জায়গা দিলেন তাই। না হলে তো প্রায় ঝুলে ঝুলেই যাচ্ছিলাম।’
-‘না না, সে ঠিক আছে। রোজ তো এই ভাবেই যাই। ডেইলি প্যাসেঞ্জের কি না! আপনাকে দেখে নতুন মনে হচ্ছে। আপনার খুব অসুবিধা হওয়া স্বাভাবিক। তাইএকটু সরে জায়গা দেওয়া আর কি! তা কোথায় যাবেন?’
-‘দাঁইহাট।’
-‘ কোন নিমন্ত্রণ বুঝি?’
-‘হ্যাঁ, ঠিক বলেছেন। আমার এক বিশেষ বন্ধুর বিয়ে। আজ বৌভাতের নেমন্তন্ন।’
-‘ কিন্তু এই ট্রেনে তো দাঁইহাটে পৌঁছতে অনেক রাত হয়ে যাবে। কোন অসুবিধা হবে না?’
-‘ তা কি করা যাবে আর? অফিস ফেরতা হয়ে যেতে হচ্ছে।’
-‘ স্টেশনে কেউ কি নিতে আসবে?’
-‘ না, তা আর কে আসবে বলুন? বন্ধুর পক্ষে তো আসা সম্ভব নয়। কাউকে যে পাঠাবে তারও কোন সম্ভাবনা দেখছি না।’
- ‘ তবে তো বড় মুশকিল হলো।’ মুখে একটু গম্ভীর ভাবে এনে বললাম।
- ‘ কেন বলুন তো?’ ভদ্রলোকের চোখে একটু কৌতূহলের ভাব। একটু কেশে নিয়ে বললাম ‘ দেখুন এক্ষেত্রে স্পষ্ট করে বলাই ভালো। এই ট্রেন দাঁইহাটে পৌঁছতে কম করে সাড়ে এগারোটা পৌনে বারোটা তো হবেই। তখন কোন রিক্সা, বাস বা অন্য কোন যানবাহন তো দূরের কথা, স্টেশনের বাইরে একটা মানুষের দেখাও পাবেন না।’
- ‘ তাহলে কি হেঁটে যেতে হবে? স্টেশন থেকে বন্ধুর বাড়ির দূরত্ব কিন্তু বেশি নয়।’ -‘ ওখানেই তো মুশকিল! জায়গাটা ভালো নয়। স্টেশন থেকে একটু এগিয়েই ফাঁকা মাঠ। মাঝখান দিয়ে যাওয়া পায়ে চলার রাস্তাটা একটু এগিয়ে বেঁকে গেছে। সেখানে বাঁদিকে দেখবেন বিরাট একটা দিঘী। পাশে একটু ঝোপ ঝাড়। চারদিকে দেখবেন গাঢ় অন্ধকার কেবল ওই ঝোপের কয়েকটা জোনাকি পোকার আলো ছাড়া। এখানেই ওত পেতে থাকে তারা।’ -‘কারা?’ বিস্ময়ে হতবাক ভদ্রলোকের মুখ। -‘ কারা আবার, লুটেরা। স্থানীয় এলাকায় অনেক ডাকাতির সঙ্গেও এরা যুক্ত। বাকি সময়টা এভাবেই দিঘির পারে ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে থাকে। আপনার মত একা কোন পথিক পেলেই তাকে মেরে তার সমস্ত টাকা-পয়সা নিয়ে ওই দিঘির জলে পাঁকের মধ্যে পুঁতে দেয়। ওই দিঘির পাঁক থেকে এই তো সেদিন পুলিশ অনেকগুলো নরকঙ্কাল উদ্ধার করল।কেন খবরের কাগজে পড়েন নি?’ -‘ বলেন কি! তাহলে উপায়! বন্ধু অনেক করে বলে দিয়েছে। ছোটবেলাকার প্রাণের বন্ধু আমার। না গেলে খুব ক্ষুন্ন হবে। সেই বন্ধুত্বটাই হয়তো থাকবে না।’ মনে মনে হাসি চেপে ভদ্রলোকের মুখের দিকে তাকালাম। কুলকুল করে ঘেমে চলেছেন। মুখে কিছুক্ষণ আগের কৌতুহলের স্থানে বিস্ময় আর আশা ভঙ্গের বেদনা। -‘ দেখুন, আমি বলি কি বন্ধুর বন্ধুত্ব বজায় রাখার চেয়ে নিজের প্রাণের দামটা কি বেশি নয়? আর কিছু মনে করবেন না, সেই বন্ধুই বা কিরকম বন্ধু? রাতে পথের বিপদের কথা আপনাকে একবারও জানায়নি? ভাগ্যিস আমার সঙ্গে দেখা হয়ে গেল, তাই। না হলে আজ রাতে যে আপনি কি বিপদে পড়তে পারতেন, তা ভাবতেই আমি এখনো শিউরে উঠছি। এখনো সময় আছে। সামনেই ব্যান্ডেল স্টেশন। নেমে এখনই হাওড়া ফেরার ট্রেন পাবেন। কাল সকালে গিয়ে বন্ধুকে সব জানালেই হবে। এবার সিদ্ধান্ত আপনার।’
- ‘ঠিক বলেছেন। আমি ব্যান্ডেল স্টেশনেই নেমে যাচ্ছি। অনেক ধন্যবাদ দাদা, ঠিক সময় আমাকে সাবধান করে দেবার জন্য।’ ভদ্রলোক চুপচাপ ভদ্রলোক ব্যান্ডেল স্টেশনে নেমে গেলেন। তাঁর মুখটা তখন দেখবার মতো। মনে মনে তখন আমি হো হো করে হেসে চলেছি আমার আরেকটা সফল, নির্দোষ মজার জন্য। পাঠকেরা, এতক্ষণে নিশ্চয়ই আপনারাও বুঝতে পেরেছেন জনহীন দাঁইহাট স্টেশন, দিঘিরপাড়, ঝোপঝাড়, লুটেরা, দীঘির জলের নিচে পাঁক থেকে পুলিশের নরকঙ্কাল উদ্ধার- এসবের কোনটাই সত্যি না। সবই আমার মস্তিষ্কপ্রসূত। দাঁইহাট স্টেশনে রাত বারোটায় নামলেও ভদ্রলোক রিকশা পেয়ে যেতেন। আমি একটা নির্দোষ মজা করলাম ভদ্রলোকের আজ রাতে বিয়ে বাড়ির ভুরিভোজ খাওয়ার স্বপ্নে ওই দীঘির ঠান্ডা জল ফেলে দেবার জন্য। আমিও ব্যান্ডেলে নেমেছি। সামনে একটা চায়ের দোকান। একবার চায়ের অর্ডার দিয়ে আর একটা সিগারেটের প্যাকেট কিনে একটা সিগারেট ধরিয়ে সবে চায়ের ভাঁড়ে একটা চুমুক দিয়েছি, এমন সময় পকেটে হাত দিয়ে দেখি কোথায় মানিব্যাগ? তার জায়গায় একটা চিরকুট। খুলে দেখি তাতে লেখা: ‘ আমার পরম শ্রদ্ধেয় শুভাকাঙ্ক্ষী বন্ধু! আমি জানি আপনি নির্দোষ মজা করতে পছন্দ করেন। কিন্তু আমিও রসিক মানুষ বুঝলেন কিনা! শুধু তফাৎ হচ্ছে আপনি রসিকতা করেন শুধু মুখের কথায় আর আমি রসিকতা করি মানুষের পকেটের সঙ্গে। এই লাইনে তিরিশ বছর হয়ে গেল আমার। মানুষের মুখ দেখলে তার পেটের কথা পড়তে পারি। আপনার সঙ্গে আবার করবার দেখা ইচ্ছা রইলো। শুভ রাত্রি!’ আমি হাঁ!
