বেগুনকোদর রেলওয়ে স্টেশন

বেগুনকোদর রেলওয়ে স্টেশন

লেখা : সুনিপা চ্যাটার্জি

যদি ইন্টারনেটে পৃথিবীর দশটি ভুতুড়ে রেলওয়ে স্টেশনের নাম খোঁজ করা যায় তবে পুরুলিয়ার এই বেগুনকোদর রেলওয়ে স্টেশনের নাম অবশ্যই আসবে। এই স্টেশনটি পড়ে পুরুলিয়া জেলায়, ঝালদা এবং কোটশিতা স্টেশনের মাঝখানে। এটি একটি হল্ট স্টেশন, এখানে কোন এক্সপ্রেস গাড়ি থামে না। শুধু কিছু প্যাসেঞ্জার গাড়ি থামে। একবার আমার এই স্টেশনে রাত কাটানোর অভিজ্ঞতা হয়েছিল, সেটাই আমি এখন বলব। আমি একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে আভ্যন্তরীণ হিসাব পরীক্ষক হিসাবে কাজ করতাম। এই কোম্পানির হেড অফিস ছিল কলকাতায়, লেলিন সরণির কমলয়া সেন্টারে। সারা পশ্চিমবাংলা জুড়ে তার বাইশটি শাখা অফিস ছিল। এর মধ্যে একটি শাখা অফিস হল পুরুলিয়া শহরে। আমি অফিসের অডিটিং কাজের জন্য গিয়েছিলাম তখনই এই অভিজ্ঞতা হয়।সেবার দুর্গাপুজো পড়েছিল অক্টোবর মাসের শেষের দিকে, কাজেই দেওয়ালি পড়েছিল প্রায় নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি। দেওয়ালির ছুটি কাটিয়ে যখন অফিসে যাই তখন আমার এক উচ্চপদস্থ কর্তা বলেন পুরুলিয়ার অফিস খোলা হয়েছে প্রায় ছয় মাস হল এখনও একবার অডিটিং হয়নি। কাজেই ওখানে একবার আমার যাবার প্রয়োজন রয়েছে। এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য, আমার কাজটা শুধুমাত্র অডিটিং নয়, কিছুটা শাখার কর্মীদের প্রশিক্ষণ‌ও করতে হয়, অর্থাৎ কীভাবে হিসাব রাখা উচিত, ক্যাশবুক কীভাবে লিখতে হয়, ভাউচার কীভাবে তৈরি করতে হয়, কীভাবে আপলোড করতে হয়, ভেরিফাই করতে হয়। এছাড়াও প্রতিদিন হেড অফিসে একটা রিপোর্ট পাঠাতে হয়, এটার সম্বন্ধে প্রশিক্ষণ দিতে হয়। নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি কলকাতা শহরে শীত অনুভূত না হলেও গ্রামে-গঞ্জে এই সময় শীতের ভাল আমেজ পাওয়া যায় আর পাহাড়ী এলাকা হলে তো কথাই নেই। বিকালের পর থেকেই শীতের পোশাক জরুরি হয়ে যায়। আমি ২৫শে নভেম্বর হাওড়া থেকে পুরুলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হই। পাঁশকুড়া, খড়গপুর, টাটানগর হয়ে পুরুলিয়া যেতে হয়। ট্রেনটি হাওড়া থেকে ছাড়ল সকাল ১০.১৫ মিনিটে। যখন টাটানগর পৌঁছাল তখন সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়েছে। শীতকালে গ্রাম অঞ্চলে দেখা যায় বিকেলের পরেই ধোঁয়াগুলো একটা মেঘের মতো আকার নিয়ে মাটি থেকে কিছুটা উপরে থেকে এক সরলরেখায় অবস্থান করে, সূর্যের আলো কমতে কমতে একসময় অন্ধকার নেমে আসে। নভেম্বর মাসে দিন-রাতের ফারাক বিস্তর। এখন দিনের তুলনায় রাত অনেক বেশি। ট্রেন যখন ঝালদা স্টেশন পাস করল তখন রাত্রি সাড়ে আটটা। যেহেতু এক্সপ্রেস ট্রেন তাই এই স্টেশনে থামে না, এর প্রায় তিন মিনিট পর আমি দেখলাম ট্রেনটি বেগুনকোদর স্টেশন ছাড়িয়ে চলে যাচ্ছে। আমি ছিলাম শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কামরায়। এটা ইঞ্জিন থেকে চারটি কামরা পিছনে। আমার মনে হয় ট্রেনের শেষ কামরাটি বেগুনকোদর স্টেশন ছাড়িয়েছে এমন সময় ট্রেনের গতি কমতে শুরু করে শেষ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে গেল। পরের স্টেশন কোটশিতা প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে, সবাই ভাবল সিগনাল নেই তাই দাঁড়িয়েছে। এইভাবে প্রায় চার-পাঁচ মিনিট কাটল, আমি জানালা দিয়ে দেখলাম দূরের সিগন্যাল কিন্তু সবুজ আছে অথচ গাড়ি যাচ্ছে না। ব্যাপারটা কী বোঝার জন্য আমি ট্রেনের দরজার কাছে এসে দেখতে লাগলাম। আমার মতোই অনেকেই বিভিন্ন কামরা থেকে মুখ বাড়িয়ে দেখছে। কেউ কেউ আবার ট্রেন থেকে নেবে প্রাকৃতিক কর্ম সারছে। আমিও নেবে একটু দূরে গিয়ে প্রাকৃতিক কর্ম করার জন্য যখন প্যান্টের চেইন খুলেছি ঠিক তখনই হর্ন বাঁচিয়ে ট্রেন চালু হয়ে গেল। আমিও যত সম্ভব তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করে প্যান্টের চেইন টানতে টানতে চলন্ত ট্রেনটাকে ধরব বলে ছুটতে লাগালাম। যারা ট্রেন থেকে নেবে ছিল সবাই ছুটতে ছুটতে ট্রেন ধরে ফেলল। আমার শরীর কিছুটা স্থূল, তাই আমি বেশি জোরে দৌড়াতে পারলাম না। তবুও যতটা সম্ভব জোরে ছুটতে গিয়ে একটা বড় পাথরে হোঁচট খেয়ে আছড়ে পড়লাম আর আমার সামনে দিয়ে ট্রেনটি সশব্দে চলে গেল। একটু পরে যখন ধাতস্থ হলাম তখন দেখলাম যারা ট্রেন থেকে নেবে ছিল তারা সবাই উঠে পড়েছে। কেবলমাত্র একজন আমার পিছন দিক থেকে রেল লাইন ধরে হেঁটে আসছে, অন্ধকারে ভালভাবে দেখা যাচ্ছে না, তা হলেও বোঝা যাচ্ছে ভদ্রলোক বয়স্ক, স্থূল শরীর, সুগার আছে, চাকুরিজীবী। সুগার আছে, এটা প্রমাণ হয় এই বয়সে ও এই শরীরে কেউ স্টেশন ছাড়া নাবে না, আর চাকুরিজীবী কারণ শনিবারে এই সময় এইসব এক্সপ্রেস গাড়িতে সংরক্ষিত কামরায় সংরক্ষিত যাত্রী ছাড়াও অনেক অফিস ফেরত যাত্রী ওঠে। ভদ্রলোককে দেখে আমি একটু দাঁড়ালাম, পরে কাছে আসতে জিজ্ঞাসা করলাম, “আপনিও কি এই ট্রেনে আসছিলেন?” ভদ্রলোক একটু গলা খাঁকরে মোটা আওয়াজে উত্তর দিলেন, “আজ্ঞে হ্যাঁ।”আমি বললাম, “আপনি কি পুরুলিয়া যাবেন?”উত্তর এল, “আমার বাড়ি শিমুলতলা গ্রামে, পুরুলিয়া থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে।” এই প্রথম আমি লক্ষ্য করলাম তার আওয়াজ আসছে অনেক দূর থেকে যেন আওয়াজটা ভেসে ভেসে আসছে, অথচ তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন আমার অদূরে। একটু পরে ভদ্রলোক বললেন, “আপনাকে দেখে তো এখানকার লোক বলে মনে হচ্ছে না, তা আপনার আসা হচ্ছে কোথা থেকে?” আমি বললাম, “কলকাতা, যাব পুরুলিয়া।” ভদ্রলোক, “পুরুলিয়াতে কাউকে চেনেন?”আমি বললাম, “না, কিন্তু যে কোম্পানিতে যাব তার ব্রাঞ্চ ম্যানেজারকে জানি। সে স্টেশনে এসে দাঁড়িয়ে থাকবে, এই গাড়িতে যাব বলেছিলাম।”ভদ্রলোক কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, “আপনি আমার সঙ্গে স্টেশনে চলুন মাঝরাতে একটা গাড়ি আছে সেটা যদি থামে তাহলে পুরুলিয়া পৌঁছাতে পারবেন।”অন্য কোন উপায় না দেখে আমি ভদ্রলোকের সঙ্গে বেগুনকোদর স্টেশনের দিকে চললাম। স্টেশনের কাছাকাছি আসতে অল্প আলোয় ওকে দেখলাম একটা মোটা চাদর আপাদ-মস্তক ঢাকা, মাথায় হনুমান টুপি, চোখের পুরু ফ্রেমের চশমা ও মোটা কাচ, হাতে দস্তানা, পায়ের মোজা ও রাবারের জুতো, তাই চলার সময় কোন আওয়াজ হচ্ছে না। স্টেশনে এসে দেখলাম একটা টিকিট কাউন্টার তাতে একজন লোক বসে ঝিমোচ্ছে। প্ল্যাটফর্মের দুদিকে দুটো লাইট জ্বলছে। প্ল্যাটফর্মের শেষ প্রান্তে একটা ফলকে তাতে হলদে ওপর কালো কালিতে লেখা আছে বেগুনকোদর হল্ট স্টেশন। বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি ভাষায়। সমুদ্রতল থেকে ৩৬০ মিটার উঁচুতে, দক্ষিণ পূর্ব রেলওয়ে রাঁচি ডিভিশন। এটা সবাই জানে স্টেশন কখনও বন্ধ হয় না, কারণ রাত্রির গাড়িকে সবুজ সংকেত দেখানোর জন্য একজন লোক থাকা অবশ্যই দরকার। ছোট ছোট স্টেশনে এক ব্যক্তি একাধিক কাজ করে থাকেন যেমন কাউন্টার সামলানো, সিগন্যাল দেওয়া, আবার প্রয়োজন হলে অফিস সাফাইও করতে হয়। আমার মনে হয় এই স্টেশনের এই ব্যক্তিটি এই একই কাজ করে থাকে। প্ল্যাটফর্মে একটা বসার জায়গা আছে, সেখানে আমাকে বসতে বলে ভদ্রলোক চলে গেলেন ভেতর থেকে পরবর্তী ট্রেনের সময় জানতে। আমি যেখানটায় বসেছিলাম সেখান থেকে আবছা হলেও টিকিট কাউন্টার দেখা যাচ্ছিল। আমি দেখলাম ভদ্রলোক টিকিট কাউন্টারের সামনে দাঁড়ালেন অথচ কাউন্টারের ভিতরের ভদ্রলোক যেমন ঝিমুচ্ছিলেন তেমনি রইলেন, তাহলে কাউন্টারের ভদ্রলোক একবার মাথা তুলে কার সঙ্গে কথা বলছেন সেটা দেখবার প্রয়োজন মনে করলেন না।একটু পরে আমার সাথী ভদ্রলোকটি এসে বললেন, “পুরুলিয়া ইন্টারসিটি আসবে মাঝরাতের পর।”আমি বললাম , “ইন্টারসিটি গভীর রাত্রি নয়।” তিনি বললেন, “ট্রেন লেট করেছে তাই রাত্রে পৌঁছাবে।”অগত্যা কী করা যায়, আমি বসে রইলাম কিছুক্ষণ পরে ভদ্রলোক বললেন, “একটু জল হবে?”আমি বললাম , “জল-খাবার সব আমার ব্যাগে ছিল। সেটা তো এখন আর পাওয়া যাবে বলে মনে হচ্ছে না।”ভদ্রলোক বললেন, “আপনার কি রিজার্ভেশন ছিল?”আমি বললাম, “বি-৩, ২৮ সাইড লোয়ার।”ভদ্রলোক বললেন, “আচ্ছা।”এরপর প্রায় এক ঘন্টা কেটে গেছে, ইতিমধ্যে আমি প্ল্যাটফর্মের বাইরে গিয়ে একটু চা খেয়ে এসেছি মাত্র। ভদ্রলোক কোথাও দেখছিলাম না, বসে বসে ঝিমুনিও এসেছে, এমন সময় একটা ঠান্ডা স্পর্শে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল, দেখলাম সেই ভদ্রলোকটি আমাকে ডাকছেন। ভদ্রলোক বললেন, “আপনার ব্যাগটি পাওয়া গেছে।”আমি বললাম, “কীকরে?”ভদ্রলোক বললেন, “আমার এক পরিচিত আপনার কামরায় সফর করছিল। সে আপনাকে নামতে দেখে আপনার ব্যাগটি নিয়ে পুরুলিয়া স্টেশনে নেমেছিল, তার বাড়ি এই স্টেশনের উল্টো দিকেই। বাইরে আমার সঙ্গে দেখা হল, কথায় কথায় আমি আপনার কথা বললাম, তখন সে আপনার ব্যাগটি আমাকে দিয়ে চলে গেল।”আমি মনে মনে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলাম এবং এমন একটা সংযোগও যে হতে পারে সে বিষয়ে ভাবতে লাগলাম। কিছুক্ষণ পরে ভদ্রলোক বলল , “দেখুন আপনার ব্যাগে সব ঠিকঠাক আছে তো!” আমি ব্যাগের চেইন খুলে দেখলাম আমার ল্যাপটপ, জলের বোতল, টিফিন, অফিসের কাগজপত্র ইত্যাদি সবই আছে। আমি বললাম, “আপনি জল খাবেন বলেছিলেন।” এই বলে জলের বোতলটা তাঁর দিকে এগিয়ে দিলাম। ভদ্রলোক বললেন, “না দরকার নেই, আমি বাইরে দোকান থেকে খেয়েছি।” রাত অনেক হয়েছে, তাই আমি টিফিন বার করে খেয়ে, জল খেয়ে, আবার বসলাম। আমার একটু পানের নেশা আছে। রাত্রে খাবার পর খয়ের ছাড়া ১২০ জর্দা দিয়ে একটা পান দরকার হয়। আমি বললাম, “আপনি বসুন, আমি দেখি বাইরে একটা পান পাওয়া যায় কিনা।”ভদ্রলোক বললেন, “আমার কাছে আছে।” এই বলে একটা কাগজের মোড়ক আমার হাতে দিলেন। সেটা হাতে নিতে বুঝতে পারলাম এটা বরফের মত ঠান্ডা। আমি বললাম, “এত ঠান্ডা কেন?”উত্তর এল , “এটা আমার পকেটে ছিল তাই।”মনে মনে ভাবলাম পকেটে থাকলে তো গরম হওয়ার কথা, আর একটা কথা আমার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে, যখন যেটা প্রয়োজন সবই এর কাছে আছে কেন? এই সব নানা কথা ভাবছি।যাই হোক, আমি যেরকম পান খাই এটা ঠিক সেই রকমই। পানটি গালে পুরে চিবোতে চিবোতে তাঁকে একটা ধন্যবাদ জানালাম, এবং জিজ্ঞাসা করলাম, “দুঃখিত, আপনার নামটা জানা হয়নি, আজ আপনি এত উপকার করলেন তার জন্য অজস্র ধন্যবাদ। বাই দি ওয়ে আমার নাম চন্দন চট্টোপাধ্যায়।”ভদ্রলোক উত্তর দিলেন তার নাম বিকাশ চক্রবর্তী। এরপরে বললেন, “একটা এক্সপ্রেস গাড়ি আসছে ডাউনে।”আমি বললাম, “ডাউন এর গাড়ি তো আমার লাগবে না। যদি আপে হয় তো ভাল, তাও আবার যদি এখানে দাঁড়ায় তো। ”হ্যাঁ ঠিক বটে, খানিকক্ষণ পরে সত্যিই একটা ট্রেনের শব্দ শুনতে পেলাম এবং অনেক দূরে ট্রেনের আবছা আলো দেখা যাচ্ছে। ক্রমে আলোটা উজ্জ্বল হতে লাগল, আবছা স্টেশন অনেকটা আলোকিত হতে লাগল। আমি একটু এগিয়ে গিয়ে লাইনের ধারে দেখতে গেলাম কী ট্রেন আসছে । আমাকে যেতে দেখে লোকটি উঠে দাঁড়ালেন এবং কর্কশ আওয়াজে আদেশের সুরে বললেন, “লাইনের ধারে যাবেন না, মারা পড়বেন।” “আমি কি ১০ বছরের শিশু যে মারা পড়ব, ট্রেনের হাওয়া আমাকে টেনে নেবে!” এই কথা বলে আমি যেমন‌ই ভদ্রলোকের দিকে তাকালাম ট্রেনের আলোয় পরিষ্কার দেখতে পেলাম ভদ্রলোকের মুখ বলে কিছুই নেই, শুধু দুটি জ্বলন্ত চোখ যেন আমাকে গিলে খেতে চাইছে। এইরকম দৃশ্য দেখার পর আমি একটা বিকট চিৎকার করে টিকিট কাউন্টারের দিকে ছুটলাম। একটু দৌড়াতে একটা পাথরে হোঁচট খেয়ে জ্ঞান হারালাম। যখন জ্ঞান ফিরল তখন আমি নিজেকে আবিষ্কার করলাম একটা হাসপাতালের বেডে। একটু সম্বিত ফিরে পেয়ে ডাক্তার বাবুকে বললাম, “আমি এখানে কী করে এলাম?” তিনি বললেন, “বিকাশ চক্রবর্তী বলে কেউ আপনার পরিচিত। আপনাকে লাইনের ধারে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উঠিয়ে নিয়ে এসে এখানে ভর্তি করে দেয়। এখন কেমন বোধ করছেন?” বললাম, “ভাল।”একটু পরে সিনেমার ফ্ল্যাশব্যাকের মত আমার সব কথা মনে পড়ে গেল। ট্রেন থেকে নামা, হোঁচট খাওয়া, এক ভদ্রলোক সঙ্গে পরিচয় হওয়া, আমার ব্যাগ ফিরে পাওয়া, পান খাওয়া, শেষে ডাউন ট্রেনের আলোতে এক জ্বলন্ত চোখ দেখা এবং জ্ঞান হারানো। আমি দেখলাম আমার ব্যাগটি মাথার কাছেই আছে। খানিক পরে ডাক্তারবাবু আমাকে প্রাথমিক চিকিৎসা করে ছেড়ে দিলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, “একবার হাসপাতালের ভিজিটার বুকটা দেখতে পারি?”ডাক্তারবাবু বললেন, “হ্যাঁ।” এই বলে তিনি আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়ে রিসেপশানে ভিজিটর বুকটা দেখালেন। তাতে সই আছে বি. চক্রবর্তী। হঠাৎ আমার মনে হল হাসপাতালের লোক যদি তাকে দেখে থাকে, তাহলে হাসপাতালে সিসিটিভি ক্যামেরাতে নিশ্চয়ই তার ফটো উঠবে। আমি হাসপাতালে সুপারের কাছে গিয়ে সব কথা খুলে বললাম এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ক্লিপিংস দেখতে চাইলাম। তাতে দেখা গেল আমি স্ট্রেচারের উপর শুয়ে আছি, রিসেপশনিস্ট কথা বলছে, কিন্তু সামনে যে ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছে তাকে দেখা যাচ্ছে না। কলমটা যেন নিজে থেকে উঠে ভিজিটর বুকে সই করছে, আমার ব্যাগটা যেন শূন্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এটা দেখে, হাসপাতালের সুপার ও সিসিটিভি অপারেটর দুজনেরই জ্ঞান হারাবার অবস্থা।

Author: admin_plipi

Leave a Reply

Your email address will not be published.