বিবস্ত্র মন

 

 

কেমন করে হল রে? কেমন করে?
বলছিলাম যখন কথাগুলো, তখন অমলের মুখ কেমন যেন বিকৃত।

আজ থেকে সাতটা দিন আগে, বাবা তাঁকে বলেছিল- নিয়ে আয় না বাবা দুটো জ্বরের ওষুধ। জ্বরটা সকাল থেকেই বাড়ছিল। কখনো কখনো জ্বরে অচৈতন্য হয়ে পড়ছিল। তবুও অমল নির্বিকার। বাবার জমানো ফিক্সড ডিপোজিটটা অমল কিছুতেই প্রাণ থাকতে  ভাঙবে না। ওটা নিয়ে অনেক কিছু করবে সে।

কি রে তুই এত আনমনা কেন, কি ভাবছিস?
চল্ বডিটাকে তাড়াতাড়ি বের করতে হবে তো। ওখানে অনেক ঝামেলা।

ঝামেলা! কি বলছিস? ওখানে কি করতে হবে?

কি করতে হবে মানে? ক-ত কাজ। প্রথমে দাহ করতে হবে, দাহ সেরে স্নান।

অমল ভেবেছিল বাবা বোধহয় অনেক দিন বাঁচবে। বাবার পরমায়ু হয়তো অনেক। সহজে হয়তো মরবেই না। সেইজন্য কষ্ট দেওয়াই শুরু করেছিল।

চল, চল দাহ করতে হবে।

হ্যা, তাই চল।

মানুষ কতটা কষ্ট পেয়ে মরে? কষ্টের সীমা কতটা হলে মানুষ ভাবে বেঁচে থেকে আর লাভ নেই। কিন্তু অমল তো শুধু নিজে বাঁচার তাগিদে বাবাকে বাঁচতে দিতে চায়নি। চেয়েছিল বাবা তাড়াতাড়ি চলে যাক। বাবার জমানো টাকাগুলো তাড়াতাড়ি খরচ হয়ে যাচ্ছে, তাও আবার মৃত্যুর মুখে থাকা মানুষটার পিছনে। আর তখনই মনে হতো – যাক!

দাহ সেরে, স্নান সেরে অমল একাকী ঘরে বাবার ব্যবহৃত সামগ্রীগুলো নেড়েচেড়ে দেখছিল। ভাবছিল এগুলোর মূল্য কত হতে পারে? মানুষটার চেয়েও বেশি? একটা অদ্ভুত প্রশ্ন মন কে ঘিরে ধরে- আচ্ছা বাবাও তো ভাবতে পারতো আমাকে কিছুই দেবে না। যেমনটা আমি ভেবেছি।

ঠিক তখনই বিবস্ত্র মন বলে ওঠে – নিজেকে চেনো, তুমি কি?

 

 

লেখাঃ ব্রহ্মানন্দ

ছবিঃ কৌশিক

 

Bibastro Mon     |     Bramhananda     |    Kaushik    |     www.pandulipi.net     |     Bengali     |    Stories     |    Abstract Concepts

Author: admin_plipi