
টেনের টেস্টের রেজাল্ট বের হয়েছে । ইংরেজি পরীক্ষায় ফেল এসেছে । তুমি বুঝতে পারছো কেন ইংরেজি খারাপ হোলো । তুমি যে সারাদিন অংকই বেশি করেছো । ইংরেজি শেখানোর কেউ নেই তোমার, অংক রেজাল্ট ও খুব ভালো হয়নি । তুমি একাই ফিসফিস করছো, “এতো পড়েও…” । বাড়ি ফিরে তুমি চুপচাপ । মা বুঝতে পারছে কিছু একটা হয়েছে । কাছে এসে জিজ্ঞেস করলো, “কি রে, রেজাল্ট বার হইছে ?” “হ্যাঁ, কিন্তু ভালোনা ।” মা রাগ করলো না । “আমি একটা রান্নার কাজ পাইছি, যে টাকা পাবো তোর জন্য দুধ কিনবো । তাহলে তোর মাথা ভালো থাকবে, পাশ করবি তুই । ” তুমি তাকালে মায়ের দিকে । মা মাথায় হাত রাখে, “একবার হারলে হার হয়না বাপ, তুই ঠিক জিতবি।” যাদের টেস্টে রেজাল্ট খারাপ হয়েছে, তাদের জন্য স্কুলে এক্সট্রা ক্লাস করানো হচ্ছে । তুমিক্লাসে খাতা কলম নিয়ে বসে ছিলে, স্যারের গলা, “উঠে দাঁড়াও । “তুমি চমকে উঠলে । পুরো ক্লাস তোমাকেই দেখছে । “এই প্রশ্নের উত্তর লিখতে পারবে ?” তুমি চুপ কারণ ইংরেজি তোমার কঠিন লাগে । স্যার বুঝতে পারলেন তোমার সমস্যা । “ঠিক আছে, যেটা কঠিন লাগে, চুপ করে বসে না থেকে জিজ্ঞেস করবে । এতো জড়তা কেন তোমার ? ” বাড়ি ফিরে বারবার স্যারের কথাই ভাবছিলে তুমি, ভালো পাশ করতে হলে জড়তা কাটিয়ে স্যারদের সাহায্য নিতেই হবে । রাতে বই নিয়ে বসে পড়তে পারোনি তুমি কারণ তোমার বাবা গ্লাস ছুঁড়ে মায়ের কপাল কেটে দিয়েছে । তুমি ডেটল তুলা দিয়ে মায়ের কপালে কাপড় বেঁধে দিয়ে মন খারাপ করে বসে ছিলে । ইংরেজি স্যার প্রশ্ন লিখতে দিয়েছেন, সেটা আর লিখতে পারোনি তুমি । তোমার কাছে এই পরিবেশে মাধ্যমিকের পড়াশোনা করা যেকতো কঠিন সেটা প্রতি মুহূর্তে আমি উপলব্ধি করি ।
ক্রমশঃ
