মরচে ধরা রহস্য (পর্ব ২ )


মরচে ধরা রহস্য (পর্ব ২ )
লেখা : শান্তনু দাস
প্রচ্ছদ : অনিন্দিতা রায় কর্মকার

আগে যা ঘটেছে

এক ঝড় জলের রাতে সোমনীল বাবুর বাড়িতে এক মহিলা ছায়া মূর্তির আবির্ভাব। পনেরো বছরের পুরোনো স্মৃতি তাজা হয়ে গেল ভয়ার্ত সোমনীল বাবুর মনে। তারপর …

পর্ব ২ – গুপ্তধনের সংকেত

অবাক দৃষ্টিতে এক অভিনব কায়দায় ইন্দ্রদা বলল, “অদৃশ্য হয়ে গেল? স্ট্রেঞ্জ!”
সত্যিই অবাক হবারই কথা। আগন্তুক যেরকম বর্ণনা দিচ্ছেন তাতে অবাক না হওয়াটাই বেমানান। আগন্তুকের নাম বিপিন চ্যাটার্জি, বয়স কুড়ি বাইশের মত, পোশাক পরিচ্ছদে আভিজাত্য স্পষ্ট। পরনে নীল শার্ট আর রেমন্ডস্ কোম্পানির ছাই কালারের প্যান্ট, বুক পকেট থেকে দামি ফাউন্টেন পেন উঁকি মারছে, চোখ দুটো ঢুলুঢুলু আর মুখে আশঙ্কার ভাব সুস্পষ্ট।
ঘরে এখন আমি, বিপিন চ্যাটার্জি এবং ইন্দ্রদা মানে ডিটেকটিভ ইন্দ্রজিৎ সান্যাল। বিপিন চ্যাটার্জির বর্ণনা অনুযায়ী কাল রাতে উনি ডায়মন্ড কোম্পানি থেকে কাজ করে নিজের স্কর্পিও করে নিজেই ড্রাইভ করে বাড়ি ফিরছিলেন। সল্টলেকের মেন রোড তখন অনেকটা শান্ত, লোকসংখ্যা কম। রাত প্রায় সাড়ে বারোটা তখন। ঘরের কাছাকাছি আসতেই গাড়ির ভেতর থেকে উনি লক্ষ্য করেন ওনার বাবা সোমনীল চ্যাটার্জি বাগানের সিমেন্ট বাঁধানো রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে আছেন। পাশে এক নারীমূর্তি দাঁড়িয়ে, গায়ে কালো কোট, মাথায় কালো টুপি। উনি পকেট থেকে রিভলবার বের করে, “কে ওখানে? কে ওখানে?” বলে চিৎকার করতে থাকেন। নিমেষের মধ্যে ওই নারী ছুটতে শুরু করে আর অন্ধকারে মিলিয়ে যায়। বিপিন বাবু গাড়ি থেকে নেমে চারিদিক খুঁজেও কাউকে পান না। তারপর বিদ্যুতের মত ঘটে যায় আরো একটা ঘটনা। বিপিন বাবু তখন আধবসা অবস্থায় এক হাত দিয়ে বাবার পালস রেট চেক করছেন, অন্য হাতে রয়েছে উদ্যত রিভলবার। পেছন থেকে একটা গুলি এসে আচমকা বিপিনবাবুর রিভলবারটা ছিটকে দেয়। পিছনে তাকিয়ে দেখেন ওনার গাড়িটা নিয়ে ওই নারীমূর্তি মেনরোড ধরে পালিয়ে যাচ্ছে। এরপর প্রতিবেশীদের সাহায্যে বাবা সোমনীল চ্যাটার্জিকে নার্সিং হোমে নিয়ে যান উনি।
ঘরের মধ্যে তিনজনকে চমকে দিয়ে দেওয়াল ঘড়িটা নিত্যকার নিয়মের মত সকাল সাতটার সাতটা ঘন্টা বাজিয়ে দিল। ইন্দ্রদা ওর কাঠের ছাইদানে প্রথম ধরানো গোল্ড ফ্লেক এর লম্বা ছাইটা ফেলে বিপিন বাবুর উদ্দেশ্যে বলল, “আচ্ছা বিপিন বাবু, আপনি বলছেন আপনি যখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন তখন সাড়ে বারোটা বাজছিল। বাট আই থিঙ্ক ইউ আর রং, নয়তো মিথ্যে বলছেন।”
-“সঠিক টাইমটা জানি না। তবে বিশ্বাস করুন আ… আমি…”
-“সঠিক টাইমটা ছিল একটা বেজে পনেরো মিনিট। অবাক হবার কিছুই নেই। আপনার রিস্ট ওয়াচটা দেখুন ঠিক একটা পনেরোতে বন্ধ হয়েছে। আর ওপরের কাঁচটা ভাঙা।”
-“হ্যাঁ, তাইতো! খেয়ালই করিনি। কাল রাতে ওই নারীমূর্তি যখন গুলি ছোঁড়ে তখন আমার হাত থেকে রিভলবারটা ছিটকে যায়, হাতটা পড়ে সিমেন্ট বাঁধানো রাস্তার উপর। তখনই হয়তো ঘড়ির কাঁচটা ভেঙে থাকবে। আসলে ওই মোমেন্টে বাবা ছাড়া আর কারোর কথা মাথায় ছিল না।”
-“বাই দা বাই, আমার কাছে আসার আগে নিশ্চয় পুলিশে রিপোর্ট করেছেন?”
-“হ্যাঁ, ইন্সপেক্টর হাজরা এসেছিলেন। তবে ঘটনাস্থলে কতকগুলো পায়ের ছাপ ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায়নি।”
-“ইটস ওকে। আপনাদের ফ্যামিলি ডিটেলসটা…”
-“ছোটবেলায় মাকে হারিয়েছি এক্সিডেন্টে। তারপর বাবা মায়ের অভাব বুঝতে দেয়নি আমাকে। এখন এক বন্ধুর সাহায্যে ওই ডায়মন্ড কোম্পানিতে জয়েন করেছি রিসেন্টলি। বেশিরভাগ দিন ফিরতে রাত হয়, মাঝে মাঝে নাইট শিফটও থাকে। বাড়িতে লোক বলতে আমি, বাবা, আর এক কাজের মেয়ে বাবার দেখাশোনার জন্য। অন্যান্য রিলেটিভদের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ নেই।”
হঠাৎ একটা রিসেন্ট রিংটোনের সুরে বিপিন বাবুর মোবাইলটা বেজে উঠল। মনে হয় নার্সিংহোম থেকে ফোন এসেছে। আমরাও বিপিন চ্যাটার্জির সাথে নার্সিং হোম যাবার জন্য তৈরি হয়ে নিলাম।
বাইপাস দিয়ে গাড়ি নার্সিংহোম যেতে আধঘন্টা লাগিয়ে দিল। কথায় কথায় জানতে পারলাম এই গাড়িটাই নিয়ে পালিয়ে যায় ওই মহিলা। সকালে চৌরাস্তার মোড়ে গাড়িটা পার্ক করা ছিল। লোকাল বুথের একটা নাম্বার থেকে অজানা একজন ফোন করে বিপিন বাবুকে জানিয়ে দেয় গাড়িটা ওখানে পার্ক করা আছে। আমি আর ইন্দ্রদা ডাক্তারবাবুর কাছে বসলাম। বিপিন বাবু বাবার কাছে গেলেন এক নার্সের সহায়তায়।
ইন্দ্রদা ডাক্তারবাবুর উদ্দেশ্যে বলল, “পেশেন্ট এর ঠিক কি হয়েছে বলুন তো?”
-“ইটস এ মিস্টিরিয়াস কেস। হঠাৎ কিছু একটা দেখে ভয় পেয়েছেন, সেখান থেকেই সেরিব্রাল ড্যামেজ, হার্টও ফল করছে মধ্যে মধ্যে।”
-“কোনো পাস্ট মেমোরি কি?”
-“মে বি। তবে একটা আতঙ্ক ওনাকে এখনো গ্রাস করে আছে। অবস্থা খুব সিরিয়াস। আগে একবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে।”
হঠাৎ একজন নার্স তড়িঘড়ি করে এসে বলল, “প্লিজ ডক্টর, কাইন্ডলি একবার আসুন তাড়াতাড়ি। তেরো নম্বর রুমের পেশেন্ট এর অবস্থা খুব সংকটজনক।”
তার মানে সোমনীল বাবুই। ডাক্তারের পারমিশন নিয়ে আমরাও গেলাম। দেখলাম বৃদ্ধ সোমনীল বাবু বেডে শুয়ে আছেন, পাশে ওনার ছেলে। ডাক্তারবাবু পালস রেট দেখে একপাশে গিয়ে দাঁড়ালেন। ইন্দ্রদাকে দেখলাম একদৃষ্টে সোমনীল বাবুর দিকে চেয়ে ওনার মুখের আধ জড়ানো কথাগুলো মন দিয়ে শুনছে।
-“জুল আ… আমাকে খ… খ… ক্ষমা করো। আ… আ… আমি যা… যা… যাচ্ছি।”
বিপিন বাবু প্রায় ডুকরে কেঁদে বলে উঠলেন, “বাবা তুমি কিসব আবোল তাবোল বলছ? কে? কে জুল? কার কথা বলছ তুমি? তোমার কিছু হবে না বাবা। আমরা সবাই তোমার সাথে আছি।”
-“বি… বি… বিপু, আ… আমার স… স… সম্পত্তি, গু… গু… গুপ্তধন।”
-“তুমি কি বলতে চাইছ বাবা?”
-“হা… হা… হার… হার… হা… হার… হার…”
একবার প্রশান্তির নিঃশ্বাস ত্যাগ করে সোমনীল বাবুর চোখ দুটো এবার স্থির হয়ে যায়। ওই অবস্থায় আমাদের ওখানে থাকাটা অবাঞ্ছনীয়। আমি আর ইন্দ্রদা তাই তেরো নম্বর রুমের পর্দাটা সরিয়ে বেরিয়ে আসি। একজন ঘোমটা দেওয়া মহিলা পর্দা থেকে কিছুটা দূরে সরে দাঁড়ায়। রুমাল দিয়ে মুখ মোছার ভান করে মনে হয় যেন মুখটাকে আত্মগোপন করার চেষ্টা করছে। আমরা একপলক দেখেই চলে আসি।
সারাটা দিন ইন্দ্রদা গুম হয়েছিল। দুপুর তিনটে নাগাদ একটা ফোন আসার পর থেকে ইন্দ্রদাকে আরো বেশি গম্ভীর দেখাচ্ছে। লক্ষ্য করছিলাম মাঝে মাঝে ওর ভুরুটা সেকেন্ড ব্রিজ হয়ে যাচ্ছে। রাত নটার পরও যে আমাদের জন্য আরো কিছু ঘটনা অপেক্ষা করছে তা কল্পনা করা যায়নি।
ইন্দ্রদার দৃষ্টি স্থির। টিপয়ে রাখা ছাইদানে সিগারেট এর ছাই ঝাড়ে ও। সিগারেটের ধোঁয়ায় ভরে যায় টেবিলল্যাম্পের সামনেটা। ধোঁয়া সরে যেতেই আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে ও, তাকিয়েই থাকে। আমিও নিশ্চুপ হয়ে ওর মুখের আকিবুঁকিগুলো জরিপ করতে থাকি। আমি পাশে গিয়ে বসতেই টেবিলল্যাম্পের সুইচটা একবার অফ একবার অন করতে করতে ইন্দ্রদা বলতে থাকে, “জানিস তো সমু, রহস্যের আলোটা চোখের সামনে জ্বলছে আর নিভছে। সোমনীল বাবুর ডাইং ওয়ার্ডগুলো বেশ মিস্টিরিয়াস। গুপ্তধন, সম্পত্তি, ক্ষমা প্রার্থনা এন্ড আবাভ অল হু ইজ জুল?”
-“হুম ইন্দ্রদা, বেশ রহস্যজনক… আচ্ছা সকালে কে তোমাকে ফোন করেছিল?”
-“বিপিন চ্যাটার্জির বন্ধু, লেকটাউন থেকে। বিপিন বাবু কয়েকদিন ওনার বন্ধুর বাড়িতেই থাকবেন। এই অবস্থায় ওনার মনের অবস্থাটা নিশ্চয় বুঝতে পারছিস। আর একটা ঘটনা, আজ দুপুরে বিপিন বাবুর বাড়িতে তালা ভেঙে চোর ঢুকেছিল। কিন্তু রহস্য আরো ঘোরালো হয়ে যাচ্ছে কারণ চোর ঘরের একটা জিনিসও ওলোটপালোট করেনি। তবে কি নিতে এসেছিল চোর?”
-“কিন্তু ওনার বন্ধু খবর পেলেন কিভাবে?”
-“আড়াইটা নাগাদ বিপিন বাবুর কাজের মেয়ে এসে দেখেছে ঘর খোলা আর তালা ভাঙা। বিপিন বাবুর কথা অনুযায়ীই অবশ্য আমাকে ইনফর্ম করা হয়েছে।”
-“আচ্ছা ইন্দ্রদা, একটা কথা বলব?”
-“বল।”
-“একজন সাধারণ মানুষ কি সব সময় পকেটে রিভলবার নিয়ে ঘোরে? এমনকি তুমিও না। কিন্তু বিপিন বাবু সে রাত্রে রিভলবার পেলেন কোথায়?”
-“হয়তো রাত করে ফিরতেন বলে রিভলবার সঙ্গে রাখতেন। লাইসেন্স থাকলে রাখাটা অস্বাভাবিক নয়…”
-“রিভলবার ইজ হেয়ার। হ্যান্ডস আপ মিস্টার ইন্দ্রজিৎ সান্যাল এন্ড ইউ…”
ইন্দ্রদা আরো কিছু বলতে যাচ্ছিল কিন্তু আমাদের অবাক করে দিয়ে এক মহিলা তীক্ষ্ণ স্বরে কথাগুলো বলল। এবার দেখলাম আমাদের ঘরের দরজার পর্দাটা সরিয়ে আমাদের দিকে রিভলবার নিশানা করে এগিয়ে আসছে এক তরুণী। চোখ দুটোর মাঝে নীলাভ মণি দুটি জ্বলজ্বল করছে, চুলগুলো ব্রাউন করা, পরনে স্কিন ফিটিং জিন্স আর হলুদ ডেনিম টপ, ওপরে ব্ল্যাক কোট, কাঁধে একটা ভ্যানিটি ব্যাগ, গলায় চকচক করছে একটা দামি পাথরের হার। বাইরের নৃশংসতা নিরীহ শান্ত মুখটার সঙ্গে বড়ই বেমানান।
আমি চিৎকার করে উঠলাম, “কে আপনি?” ততক্ষনে রিভলবারের নল আমার কপাল স্পর্শ করে গেছে।
ইন্দ্রদার বজ্রগম্ভীর স্বর, “হোয়াট ডু ইউ ওয়ান্ট?”
-“নাথিং স্পেশাল। কিন্তু আমার কাজটা না করে দিলে ইউ উইল বি ইন বিগ ডেঞ্জার মিস্টার সান্যাল। আই ডোন্ট ওয়ান্ট ইওর হার্ম, আই এম…”
-“মিস মার্টিনা ফ্রম আমেরিকা। অ্যাম আই রাইট?”
-“ইয়েস মার্টিনা ক্যাম্পবেল ফ্রম আমেরিকা, বাট…”
-“নিড নট টু বি অ্যাসটোনিসড। আমি একজন প্রাইভেট ডিটেকটিভ, অফকোর্স অ্যান ইন্ডিয়ান। নিখুঁত দৃষ্টিশক্তি আর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা থাকলে সবকিছুই জানা সম্ভব। আর বুদ্ধির জোরে আপনার মত শয়তানদের শায়েস্তা করতে আমার…”
-“হেই মিস্টার… আর একটা কথা বললে আপনাদের দুজনের বুক ঝাঁঝরা করে ওই ইন্ডিয়ার নোংরা গঙ্গায় ভাসিয়ে দেব। নাউ কেয়ারফুলি লিসন টু মি।”
মেয়েটি সাইডব্যাগ থেকে একটি কাগজ বের করল, কিছু লেখা আছে বোধহয়। বের করার সময় একটা প্যাডের মত ডায়রি মেঝেতে পড়ে গেল। তখনও আমার কপালে রিভলবার ঠেকানো। ইন্দ্রদাকেই অর্ডার করা হল ডায়রিটা তুলতে। কোনোরকম চালাকির চেষ্টা না করে মেঝে থেকে ডায়রিটা তুলে ইন্দ্রদা মার্টিনার হাতে দিল। ভাঁজ করা একটা কাগজ ইন্দ্রদার হাতে দিল মেয়েটি। তাতে গোটা গোটা অক্ষরে বাংলায় লেখা ছিল একটা ছড়া।

“গাধারে মেরে দাদা
সংকেত নিয়ে যান,
পাবেন তো দেখুন
গুপ্তধনের সন্ধান।
কালো সাদা রঙের এটি
ভেবে দেখুন পরে,
কান টানলে আওয়াজ করে
খুব জোরে জোরে।”

-“ইটস এ সাইন অফ হিডেন ট্রেজার।” মেয়েটি ফুঁসলে বলে উঠল।
মুখ দিয়ে নিজের অজান্তেই অস্ফুটে একটা কথা বেরিয়ে এল আমার, “গুপ্তধন!”
ইন্দ্রদার ঠোঁটে আলতো হাসি। সে মার্টিনার দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে বলল, “সো ইউ আর দা লেডি… সোমনীল বাবুকে আপনিই ভয় দেখাতে গিয়েছিলেন, আর আজ দুপুরে আপনিই চোর সেজে সোমনীল বাবুর ঘরে গিয়েছিলেন গুপ্তধনের সন্ধানে, আজ সকালে নার্সিং হোমের পর্দার আড়ালে মাথায় ঘোমটা দিয়ে আত্মগোপন করে শুনছিলেন আপনিই, আর গুপ্তধনের ছকটার সমাধান করে দিতে পারলে আমি হব বিপদমুক্ত, তাই তো?”
-“আপনি কত সহজে সব বুঝে যান। থ্যাঙ্কস ফর নট এক্সপেনসিং মাই ক্যালোরি। মাইন্ড ইট, ইওর ফিউচার ডিপেন্ডস অন ইট। সংকেতটা আপনার কাছে থাকল, চালাকির চেষ্টা করলে ফল হবে মারাত্মক। ফার্স্ট টাইম আই আওয়ের ইউ, অ্যান্ড দিস ইজ ইওর লাস্ট টাইম অলসো।” মার্টিনা ঝাঁঝিয়ে ওঠে।
-“আর গুপ্তধনের হদিস পাওয়া গেলে আমার প্রফিট?” ইন্দ্রদার নার্ভ তখনও দুর্বল হয়নি।
-“আপনি পারেনও মিস্টার ইন্দ্রজিৎ সান্যাল। ঈশপের গল্প পড়েছেন? এক বাঘের গলায় কাঁটা বিঁধে গেছিল। বের করতে সাহায্য করেছিল এক নিরীহ সারস। বোকা সারস তার কাজের পুরস্কার চেয়েছিল। দেন হোয়াট মিস্টার সান্যাল?… আপনি বোধহয় ভুলে যাচ্ছেন আই অ্যাম নট হেয়ার টু এক্সপ্লেন ইউ এনি কিডস স্টোরি, অ্যান্ড দিস ইজ নট এ টয় রিভলবার। আই ওয়ান্ট দা ট্রেজার অ্যাট এনি কস্ট।” ধারালো কথাগুলো বলতে বলতে দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেল মিস মার্টিনা ক্যাম্পবেল।
ইন্দ্রদা তখনও মার্টিনার গমনপথের দিকে চেয়ে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে। টেবিলের ওপর রাখা একগ্লাস জল ঢকঢক করে খেতে খেতে ইন্দ্রদার গলা কানে এল, “ফোর ফাইভ নাইন নাইন জিরো ফোর টু, নাম্বারটা নোট করে রাখতো সৌম্য।” ইন্দ্রদার দৃষ্টি স্থির সামনের দিকে।
-“এটা আবার কার নম্বর?”
-“যা বলছি কর না।”
আমি ডায়রিতে নম্বরটা নোট করতে করতে ইন্দ্রদাকে জিজ্ঞেস করলাম, “তুমি কি করে মেয়েটার নাম জানলে বলো তো ইন্দ্রদা?”
-“মিস মার্টিনার ডান হাতের তর্জনীতে যে আংটিটা ছিল লক্ষ্য করিসনি? তাতে স্পষ্ট মার্টিনা নামটা লেখা ছিল। আর ভ্যানিটি ব্যাগের ওপর স্টিলের পাতে লেখা ছিল ‘আমেরিকান স্টাইল, পিম্পটন স্ট্রিট’… এরপরও কি অবাক হবার কিছু আছে?”
-“না। অবাক হচ্ছি তোমার আর আমার দৃষ্টিশক্তির পার্থক্য দেখে। যাইহোক এই কাগজের ছড়াটা ভুয়ো নয়তো ইন্দ্রদা?”
-“তাহলে মার্টিনা ক্যাম্পবেল আসবেই বা কেন?”
-“হুম। কিন্তু আমেরিকা থেকে ভারতে আসার উদ্দেশ্যটা কি?”
-“তাছাড়া সোমনীল বাবুর সঙ্গে এই মার্টিনার সম্পর্ক কি সেটাও একটা বড় প্রশ্ন সৌম্য?”
-“ইন্দ্রদা তুমি মার্টিনার গলার হারটা লক্ষ্য করলে?”
-“কেন বল তো সৌম্য?”
-“না, থাক।”

চলবে …

Author: admin_plipi

13 thoughts on “মরচে ধরা রহস্য (পর্ব ২ )

  1. যাক এটির ই অপেক্ষায় ছিলাম। দুদিন দেখিনি আর এর মধ্যেই বেরিয়েও গেছে।

  2. গুপ্তধনের কাগজ মেয়েটির কাছে এলো কি করে? টুইস্ট। সাধারণত মৃত ব্যক্তির পরিবার বর্গের কাছে পাওয়া যায়। ভালো

  3. কাহিনী আস্তে আস্তে এগোচ্ছে। অপেক্ষা পরের পার্ট এর।

Leave a Reply

Your email address will not be published.