
“খা বাপ ” মা থালাটা এগিয়ে দিল। তুমি তাকালে, সামান্য ভাত আর একটু লবন। “তুমি খেয়েছো? ” তুমি জিজ্ঞেস করলে। মা চোখ সরিয়ে নিল, “আমার খিদা নাই। ” এই কথাটা তুমি অনেকবার শুনেছো। প্রতিবারই একই মিথ্যা। আজ আর তোমার সহ্য হলোনা। “মা মিথ্যা বলোনা। ” মা থেমে গেল। ঘরের ভেতর নিস্তব্ধতা। তুমি ভাতের থালা নামিয়ে রাখলে। “আজ তুমি না খেলে আমি খাবোনা। ” মা রেগে গেল, “নাটক করিসনা ব্যাটা। ” তুমিও আজ জেদি। দুজনেই চুপ। তারপর ধীরে মা তোমার সামনে বসে পরলো, থালা থেকে এক চিমটে ভাত তুলে মুখে দিল। তার চোখ থেকে এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পরলো। “তোর বাপটা সেই সকালে একটু খায়ে বার হইছে, এখনো ঢুকলো না। কখন খাবে কে জানে। তারে থুয়ে কীভাবে আমি মুখে দেই বল। “তুমি জানো এটাও সত্যি না। বাবার জন্য আছে ঠিকই, কিন্তু তারপর যতটুকু পরে থাকবে, তা দিয়ে মায়ের পেট ভরবে না। তুমি মায়ের হাতটা শক্ত করে ধরলে, “আমি সব বদলে দেবো মা।” ফিসফিস করে বললে তুমি। মা কিছু বললো না, শুধু হাতটা মাথায় রাখলো। সেদিনের মায়ের ভাত তোমার জীবনের যেন একটা বড়ো শপথ হয়ে গেল। ক্রমশঃ
