[ তুমি ] চতুর্থ পর্ব – আলো নেই তবু আলো আছে : শিপ্রা তরফদার মজুমদার 

আজও  আলো নাইমায়ের  গলায় ক্লান্তি । তুমি বই খুলে বসেছিলে  কিন্তু দেখা  যাচ্ছেনা  আর কিছু। অন্ধকার  ধীরে ধীরে সারাঘরটায় ছড়িয়ে পড়ছে ।কাল পড়িস হরিমা  বললো । তুমি  চুপ,  এই  কাল  বললেই  আর  হয়না  শেষ । হঠাৎ  তুমি  উঠে  দাঁড়ালে, বইহাতে নিয়ে  বের হলে  ঘর থেকে।

 “কোথায়  চললি ?” মা  অবাক । “আসছি, এখানেই আছি ।বলে তুমি  বেরিয়ে  গেলে  ঘর  থেকে । গলির  মাথায় একটা  ল্যাম্প  পোস্ট, সেখানে গিয়ে বসলে  তুমি হালকা হলুদ  আলো,  চারপাশে  ধুলো আর মানুষজনের  কথাবার্তা । সনাতন  পাশ  দিয়ে  যেতে  যেতে সাইকেল থামিয়ে  বললো, “হরি, এই আলোতে পড়ছিসকালকে  যাবি  তো স্কুলে ?” “হ্যাঁ  যাবোডাকিস কিন্তু ।”  তুমি  পড়ায়  মন  দিলে।

 কিছুক্ষন  পর  একটা  ছায়া  পরলো  তোমার  পাশে, “মা” “তুই  আসলি  বাপআমি  আর  ঘরেএকা  কি  করি ।  বসি  আমি  তোর  পাশে,  পড়  তুই ।আমি  বুঝতে  পারছিলামমায়ের  উপস্থিতি  তোমাকে  এগিয়ে  যাওয়ার  সাহস  দেয় । পরদিন  স্কুলে  বাংলা  স্যার  সবাইকে  চিঠি  লিখতে  বললেন,  ঠিকানা  সহ  লিখতে  হবে।

 তুমি  কলম  ধরলেসম্পূর্ণ  চিঠি  লেখার  পরনিজের  নাম,  বাবার  নাম  লিখলেতারপর  হাত  টা  থেমে  গেল ।  পাশের  বন্ধু  লিখছে  ফ্ল্যাট,  রোড,  পিনকোড ।  তুমি  থেমে  রইলে ।  পেছনথেকে  স্যার  বললেন  “লেখ,  থেমে  আছিস  কেন ? “পাশের  বন্ধু  বলে  উঠলো, “  কি  লিখবে  স্যার,    বস্তিতে  থাকে ।”  তারপর  ক্লাসেহাসি ।  

তোমার  কান  গরম  হয়ে  উঠলো,  খাতা  বন্ধ  করলে  তুমি ।  স্যার  খাতাটা  নিয়ে  দেখলেন  তোমার  সুন্দর  হাতের  লেখা, “বাঃ,  খুবসুন্দর  লিখেছিস,  তোর  বস্তির  তো  কোনো  নাম  আছেসেটাই  লেখওটাই  তোর  ঠিকানা ।  আসলে  ঠিকানা  লিখতে  লজ্জা  পেতে নেইকাজের  মাধ্যমে  ওই  ঠিকানাকে  বড়ো  করে  তোলা  যায় ।  “পুরো  ক্লাস  চুপ  হয়ে  গেল  স্যারের  কথায় ।  তুমি  লিখলে, “দক্ষিণ  বস্তি।আজ  প্রথমবার  নিজের  ঠিকানা  তুমি  গর্বের  সাথে  লিখলে  স্যারের  অনুপ্রেরণায় ।

ক্রমশঃ

Author: admin_plipi