
“ওকে দলে নিস না” – একটা তীক্ষ্ণ গলা । তুমি থেমে গেলে । “কেন ?” আরেকজন জিজ্ঞেস করলো । “ও বস্তির ছেলে, দেখনা জামাটা কেমন নোংরা” সবাই খুব হাসছিল । তুমি ছোটো থেকেই শুনে অভ্যস্ত এসব কথা, কিন্তু এখন তোমার কান গরম হয়ে যায় এইসব কথায় । তোমার ভেতর আগুন জ্বলে । বাড়িতে ফিরে তুমি চুপচাপ বসেছিলে । মা এসে পাশে দাঁড়ালো । “কি হইছে ?” তুমি ফিসফিস করে বললে, “আমরা বস্তিতে থাকি, আমরা কি খুব খারাপ মা? গায়ে গন্ধ আমাদের ?” মা তোমার চোখের দিকে তাকালো নীরবে, “ওসব ভাবিস না। পড় তুই, একদিন আমরা ঠিক দালানে থাকবো ।” তুমি চোখের জল লুকোলে মায়ের থেকে । টেনে নিলে তোমার প্ৰিয় অংক খাতা । তোমার যত মনে পড়ছে স্কুলের ছেলেদের হাসি, টিটকিরি, ততো তোমার মধ্যে আগুন জ্বলছে ।
পরদিন ভোরে তুমিহাঁটতে বেরিয়েছিলে বস্তা নিয়ে । ডাস্টবিনে তুমি হাত ঢুকিয়ে কাগজ খুঁজছিলে । গন্ধ, নোংরা কিন্তু তুমি এসবে অভ্যস্ত । একজন পাশদিয়ে যেতে যেতে বললো, “আহারে, কতটুকু বয়স, এখন পড়ার বয়স এদের ।” তুমি শুনলে নীরবে, কারণ এসব কাজ করেই তোমাকে খাতা কেনার টাকা জোগাড় করতে হয় । সূর্য উঠতে উঠতে বস্তা ভরে গেল । তুমি বাড়ি ফিরলে, হাত কালো, শরীর তোমার ক্লান্ত । মা মাথায় হাত বুলিয়ে বললো, “আজ আর পড়িস না, ঘুমা একটু ।”
সেদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছো, হঠাৎ কানে এলো, “ওহরি না ? খুব পরিশ্রম করে পড়ছে ছেলেটা । আর আমাদের ঘরের ছেলে মেয়েরা সব পায় হাতের কাছে, শুধু ঘুমায় ।” অন্যজন হেসেউত্তর দেয়, “ওসব করে আর কতদূর এগোবে ? পেটে খিদে থাকলে পড়া কি মাথায় ঢোকে ?” বাড়ি ফিরে তুমি অন্যমনস্ক, কাকুদুটো ঠিকই হয়তো বলেছে, ও কি পারবে এতো অভাবের মধ্যে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে যেতে ? আমি জানি তোমার অদম্য ইচ্ছের কথা, পারতে তো হবেই তোমাকে ।
ক্রমশঃ
