
“আজও আলো নাই” মায়ের গলায় ক্লান্তি । তুমি বই খুলে বসেছিলে কিন্তু দেখা যাচ্ছেনা আর কিছু। অন্ধকার ধীরে ধীরে সারাঘরটায় ছড়িয়ে পড়ছে । “কাল পড়িস হরি” মা বললো । তুমি চুপ, এই কাল বললেই আর হয়না শেষ । হঠাৎ তুমি উঠে দাঁড়ালে, বইহাতে নিয়ে বের হলে ঘর থেকে।
“কোথায় চললি ?” মা অবাক । “আসছি, এখানেই আছি ।” বলে তুমি বেরিয়ে গেলে ঘর থেকে । গলির মাথায় একটা ল্যাম্প পোস্ট, সেখানে গিয়ে বসলে তুমি হালকা হলুদ আলো, চারপাশে ধুলো আর মানুষজনের কথাবার্তা । সনাতন পাশ দিয়ে যেতে যেতে সাইকেল থামিয়ে বললো, “হরি, এই আলোতে পড়ছিস ? কালকে যাবি তো স্কুলে ?” “হ্যাঁ যাবো, ডাকিস কিন্তু ।” তুমি পড়ায় মন দিলে।
কিছুক্ষন পর একটা ছায়া পরলো তোমার পাশে, “মা” “তুই আসলি বাপ, আমি আর ঘরেএকা কি করি । বসি আমি তোর পাশে, পড় তুই ।” আমি বুঝতে পারছিলাম, মায়ের উপস্থিতি তোমাকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দেয় । পরদিন স্কুলে বাংলা স্যার সবাইকে চিঠি লিখতে বললেন, ঠিকানা সহ লিখতে হবে।
তুমি কলম ধরলে, সম্পূর্ণ চিঠি লেখার পরনিজের নাম, বাবার নাম লিখলে, তারপর হাত টা থেমে গেল । পাশের বন্ধু লিখছে ফ্ল্যাট, রোড, পিনকোড । তুমি থেমে রইলে । পেছনথেকে স্যার বললেন “লেখ, থেমে আছিস কেন ? “পাশের বন্ধু বলে উঠলো, “ও কি লিখবে স্যার, ও বস্তিতে থাকে ।” তারপর ক্লাসেহাসি ।
তোমার কান গরম হয়ে উঠলো, খাতা বন্ধ করলে তুমি । স্যার খাতাটা নিয়ে দেখলেন তোমার সুন্দর হাতের লেখা, “বাঃ, খুবসুন্দর লিখেছিস, তোর বস্তির তো কোনো নাম আছে, সেটাই লেখ, ওটাই তোর ঠিকানা । আসলে ঠিকানা লিখতে লজ্জা পেতে নেই, কাজের মাধ্যমে ওই ঠিকানাকে বড়ো করে তোলা যায় । “পুরো ক্লাস চুপ হয়ে গেল স্যারের কথায় । তুমি লিখলে, “দক্ষিণ বস্তি” ।আজ প্রথমবার নিজের ঠিকানা তুমি গর্বের সাথে লিখলে স্যারের অনুপ্রেরণায় ।
ক্রমশঃ
