সমুদ্র যা ফিরিয়ে আনল

সমুদ্র যা ফিরিয়ে আনল ।। লেখা : অভিষেক চক্রবর্তী

“এইভাবেই পৃথিবীর শেষ হয়, বিস্ফোরণে নয়, বরং নিঃশব্দ কান্নায়…”কথাটি বলে ক্যাপ্টেন কেনেডি চারপাশের দিকে তাকালেন।“আমরা কি সেই জায়গায় পৌঁছেছি?”, তিনি জিজ্ঞাসা করলেন।“হ্যাঁ স্যার! ডানদিকে স্যার!”, চিৎকার করল ফার্স্ট মেট, নিকোলাস রোজেনবার্গ।“আশ্চর্য! কেউ ভাবতেই পারত না এই জায়গাটি আসলেই কোনো মিথ নয়!”, ক্যাপ্টেন ফিসফিস করে বললেন।“হ্যাঁ ক্যাপ্টেন কেনেডি। আমরা সত্যিই ভাগ্যবান যে এটি পেয়েছি। এটাই অভিযানের উদ্দেশ্য। আমাদের এটিকে খুঁজে বের করতে এবং অধ্যয়ন করতে টাকা দেওয়া হচ্ছে।”, বললেন সামুদ্রিক বিজ্ঞানী ড. অভয় চ্যাটার্জি।সবাই জাহাজের ডানদিকের দিকে ছুটে গেল সেই জায়গাটি দেখার জন্য। এটি ছিল এক বিশাল ভাসমান ধ্বংসাবশেষের জাল- যা মানুষের তৈরি এবং ত্যাগ করা অপ্রয়োজনীয় জিনিসে পূর্ণ। হঠাৎ ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে কিছু একটার ঝিলিক দেখা গেল এবং রুপালি আলো চকচক করে উঠল। একটি মাছ! ফাঁপা আর মৃত চোখ নিয়ে। তার শরীরে কোনো আঁশ নেই, শুধু প্লাস্টিক। তবুও, সেটি নড়ল এবং সাঁতার কাটতে লাগল।“এটা… কিভাবে বেঁচে আছে?”, বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞাসা করল তরুণ ইন্টার্ন মারিও আন্তোনেলা, “এটা তো স্বাভাবিক নয়।”ড. চ্যাটার্জি তার হিট স্ক্যানার নিয়ে এলেন এবং স্ক্যান করে রিডিং নেওয়ার চেষ্টা করলেন, “না। কোনো তাপের চিহ্ন নেই। এই মাছগুলো একদম জীবিত নয়, আর আমি নিশ্চিত আমার যন্ত্রপাতি ঠিকঠাক কাজ করছে।”“তাহলে, আপনি এটা কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন? এটা অসম্ভব!”, চিৎকার করল জাহাজের এক নাবিক।হঠাৎ জাহাজের পাশে একটি প্রচণ্ড ধাক্কা লাগল। একটি পাখনা দেখা গেল। উজ্জ্বল রুপালি এবং তীক্ষ্ণ। একটি গ্রেট হোয়াইট! ভাঙা প্লাস্টিকের চেয়ার, মগ, ছেঁড়া ব্যাগ এবং আরও অনেক কিছু দিয়ে গঠিত- যেন এক ভাস্কর্য! সে তার মুখ হাঁ করল, তার দাঁতগুলি দেখা গেল। পুরনো মরিচা ধরা লোহা দিয়ে তৈরি।“হে ঈশ্বর! এটা বিশাল! ওটা কি আক্রমণ করতে চলেছে?”, ভয়ে চিৎকার করল মারিও।“চুপ করো, ছেলে।”, ক্যাপ্টেন গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, “শুধু হাঙর নয়, আমাদের আরেকটা বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে হবে।”“আপনি কি বোঝাতে চাচ্ছেন, স্যার?”, জানতে চাইল নিকোলাস।ঠিক সেই মুহূর্তে জাহাজে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি লাগল। সবার চোখে আতঙ্ক। আর নিচের দিকে তাকিয়ে যা দেখল, তা বিশ্বাস করা কঠিন! এটি হাঙর ছিল না। অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধ্বংসাবশেষের টুকরো জাহাজে উঠে আসছিল। সেগুলো মোচড় খাচ্ছিল, জুড়ে যাচ্ছিল, লম্বা লম্বা শিকলে রূপ নিচ্ছিল, যেগুলো জাহাজের গায়ে লেপ্টে যাচ্ছিল। বিকট শব্দে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ল।“আমাদের এখান থেকে পালাতে হবে, ক্যাপ্টেন!”, চিৎকার করল মারিও, “ওগুলো আমাদের নিচে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা মারা যাব!”কিন্তু ক্যাপ্টেন কেনেডি কোনো নির্দেশ দিলেন না। তিনি শুধু চেয়ে দেখলেন, কীভাবে তার প্রিয় জাহাজটি এক ভয়ংকর দানবে পরিণত হয়ে সমুদ্রের অতল গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে। তিনি শুধু বি‌শব্দে ফিসফিস করলেন…“এইভাবেই পৃথিবীর শেষ হয়, এইভাবেই পৃথিবীর শেষ হয়, বিস্ফোরণে নয়, বরং নিঃশব্দ কান্নায়…”

Author: admin_plipi