[ তুমি ] দ্বিতীয় পর্ব – ভাঙা ছাদের নিচে : শিপ্রা তরফদার মজুমদার

ঝড়টা হঠাৎ উঠলো বিকেলের দিকে। প্রথমে বাতাস, তারপর বৃষ্টি, তারপর একসাথে সবকিছু। টিনের চালে ঝমাঝম শব্দ তোমার যে খুব ভালো লাগে আমি জানি। তুমি নীরবে অংক করছিলে খাতার লাস্ট পাতায়। কিন্তু পাতা তো শেষ, অংক তো এখনো মিললো না, বাকিটা কোথায় করবে, এটাই ভাবছিলে তুমি। এমন সময় মায়ের চিৎকার, “ও হরি, বালতি আন, দেখ ঘরে জল ঢুকে গেল।” তুমি দৌড়ে গেলে বালতি আনতে। বালতির মধ্যে টিনের ফুটো দিয়ে ধারার মতো জল পড়ছে, ঠিক পাশেই তোমার অংক খাতা। তুমি একহাতে বালতি ধরেছো, আরেক হাতে খাতা। মা দৌড়ে এসে খাতা নিয়ে নেয়, “ভয় পাসনা বাপ, তোর খাতা ভিজবে না, ভগবান আছে তোর সাথে।” কিছুক্ষন পর বৃষ্টি একটু কমলো কিন্তু ঝোড়ো হাওয়া বাইরে। মায়ের মন অস্থির, “তোর বাপ সেই যে সকালে গেল, এখনো ফিরলো না। এই ঝড়ে কীভাবে ঘরে ফিরবে লোকটা? ”    তুমি মাঝে মাঝে অবাক হও মায়ের ভালোবাসা দেখে। একটা রাত বাদ যায়না,ওই লোকটার হাতে মার,বাজে কথা গিলতে হয় রোজ, তবুও এতো চিন্তা লোকটার জন্য?   বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। তুমি চক দিয়ে বাকি অংক দেওয়ালে কোষছো, আমি বিবেক, যতো তোমায় দেখি, ততোই অবাক হই। এতো কিছুর মধ্যেও ভাঙা চালের তলায় তুমি নিজের অংক মেলাতে ব্যস্ত। এগিয়ে যাও, আমি আছি তোমার সাথে সবসময়।                     ক্রমশঃ

Author: admin_plipi