হঠাৎ দেখা

হঠাৎ দেখা

কলমে – রিয়া দাস

ছবি – অরিন্দম ঘোষ

 

 

 

-“কিরে! এয়ারপোর্টে কি করছিস?”

-“ওহ্ তুই! তুই এখানে কি করছিস? আমি তো কাজের জন্য হায়দ্রাবাদ যাব।”

-“আমিও বাড়ি এসেছিলাম, ফিরবো এবার।”

– “ওহ্! ভালো।”

– “বাবা! শুধু এই টুকুই! আর কিছু জানতে চাইবি না?”

-“নাহ্! কোন প্রবৃত্তি নেই।”

-“ওহ্, তোর সেই রাগ! চিরকালই কেমন গম্ভীর কবি টাইপেরই রয়ে গেলি।”

-“হুম! আর তুই… চিরকাল উগ্ৰচন্ডী… কোনদিন কারো কথা ভাবিস নি।”

-“আরে ধুর! ভেবে কি হবে বলতো? জীবন তো একটাই, তো খুল কে জিও জিন্দেগি…”

-“ভালো… আচ্ছা চলি।”

-“সেকি রণ! তুই এরকম কবে হলি? আগে তো কেমন ভ্যাবলা ছিলিস… এখন দেখছি আবার কারো সাথে কথা বলিস না… পুরনো প্রেমিকার সাথে এতদিন পর দেখা হল কোনো রিঅ্যাকশন নেই!”

-“কি করবো দেখা হয়েছে তো? যা দূরে গিয়ে  বস।”

-“হুম, ঠিক আছে।”

কিছুক্ষণ পর…

-“অ্যাই রণ… রণ…”

-“উফফ…! আবার কি হলো মেঘ? আচমকা এরকম ভাবে ডাকছিস কেন? তোর এই উগ্র চন্ডী ক্যারেক্টার আমার কোন দিন ভালো লাগত না… এই জন্য, শুধু এই জন্য আমাদের সম্পর্কটা ভেঙে ছিল… সবকিছুতে উদাসীন… আমি চিরকালই তোর জীবনে উচ্ছিষ্ট বস্তু ছিলাম।”

-“বাবা! তুই দেখছি এখনও ভালবাসিস! রাগ কমেনি এখনও…”

-“জানিনা… প্লিজ যা এখান থেকে এখান থেকে…”

-“যাব না, কি করবি?…অ্যাই… কিছু বল না রণ…”

-“কি বলবো?  আমার কিছুই বলার নেই…”

-“আচ্ছা, আমি বলি… আঙ্কেল আন্টি কেমন আছেন? তুই কেমন আছিস? কাউকে পছন্দ হয়েছে? বিয়ে করেছিস বলে তো মনে হচ্ছে না…”

-“তোর কোনটাই জানার দরকার নেই মেঘ…”

-“ওহ! ঠিক আছে। আচ্ছা কিছু খাওয়া না, সকাল থেকে কিছু খাইনি…”

-“ওকে… চল।”

 

খেয়ে ফিরে আসার পর…

 

-“উফ্ এই খেয়ে পেট শান্তি পেল! আচ্ছা শোন না, তোকে না টাকা দিতে পারব না।”

-“আমি কি চেয়েছি? আর তুই বাড়ি থেকে আবার ফিরছিস… তা সকালে তোর কপালে খাবার জোটে নি? এটা তো হতে পারে না…”

-”হুম! পালিয়ে এসেছি…”

-“মানে?”

-“মানে পালিয়েছি …দাঁড়া তোর না করা প্রশ্নের উত্তর টাও দিচ্ছি… জলটাকে খেতে দে আগে…”

-“বল এবার… আবার কি করেছিস যে পালাতে হল?”

-“শোন, আমি কিছুই করিনি। মা দু’সপ্তাহ আগে একটা ছেলের ছবি পাঠিয়েছিল… আমি হ্যাঁ না কিছুই বলিনি…বাড়ি ফিরে দেখি সব আয়োজন করে ফেলেছে। এক সপ্তাহ হলো এসেছি, এসেই শুনি বিয়ে আমার… একবার ভাব… আমি একটা অ্যাডাল্ট মেয়ে, আমার মতামত না নিয়েই বিয়ে ঠিক করে দিয়েছে!”

-“কিন্তু তুই তো বারণ করতে পারতিস, না বলতে পারতিস… সেটাও তো বলিস নি।”

-“দেখ, আমি কাজে ব্যস্ত ছিলাম… অতটা ধ্যান দিতে পারিনি… আমি অফিস থেকে ছুটি নেব, আর ওরা না খাটিয়ে আমাকে ছেড়ে দেবে-  তা তো হয় না। তাই ব্যাপারটা গুরুত্ব দেওয়ার সময় পাইনি।… তারপর এসে দেখি এইসব… আর ছেলেটার কি আক্কেল বল! যাকে বিয়ে করবে তার সাথে কথা বলার প্রয়োজন মনে করল না… ওসব ছেলেকে বিয়ে করা মানে ব্যাপারটায় জাস্ট ভাবা যাচ্ছেনা…”

-“হুম…”

-“বাড়িতে বারণ করেছি, তারপর সেই ইমোশনাল অত্যাচার শুরু… কেউই কিছু শুনছে না, আমি আর কি করবো?… জানি কেউ শুনবে না, তাই পালিয়েছি…”

-“বুঝলাম, কিন্তু তোর বাড়ি থেকে খোঁজ লাগায়নি নাকি? আর তুই তো বাইরে থাকিস, সবাই বুঝতেই পারবে যে তুই ব্যাঙ্গালোরেই যাবি।”

-“জানি… বিয়ে কাল-  তাই আমি বলেছিলাম, আজ যেন কেউ ডিস্টার্ব না করে, আমি ঘুমাবো। আমাকে যেন কেউ স্ট্রেস না দেয়… তাই রাতের আগে যেন কেউ ডাকতে না আসে আমায়।”

-“ওহ! তা তোকে বিশ্বাস করল? তুই যা ডানপিটে মেয়ে ! তোকে তোর বাড়ির লোক বিশ্বাস করল? যে তুই এই হঠাৎ করে নেওয়া ডিসিশনে রাজি হয়ে যাবি?”

-“জানি না। তুই আর চাপ খাওয়াস না… যদি ধরে তখন পুলিশে বলব যে আমাকে বিয়ের জন্য জোর করছে… দেখ শত হলেও তো বাবা মা, তাই আগে তো আর কেস করতে পারি না…”

-“বাবাঃ! কত ভাবে মেয়ে…”

-“আচ্ছা, তোর কথা বল, কার সাথে প্রেম করছিস?”

-“কেউ নেই, আমি আর কাউকে ভালোবাসতে পারি না।”

-“সারাজীবন কি সেন্টু খাবি নাকি?”

-“আপাতত বিয়ের কোন প্ল্যান নেই।”

-“বুঝলাম! জানিস বাইরে গিয়ে যাদের সাথে প্রেম করেছি সবাই ঠিকঠাক প্রথম প্রথম… তারপর সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত… তুই একমাত্র যে আমাকে আগলে রাখতিস… তাই হয়তো আস্কারাটা পেতাম।”

-“আমি কোনদিনও তোকে আটকাইনি কোন কিছুর জন্য… শুধু তোর কাছ থেকে টাইম আর একটু যত্ন চাইতাম।… তোর কাছে নিজের জীবনটাই প্রিয় ছিল, আমি তো তোর জীবনে উচ্ছিষ্ট বস্তু মনে করতাম নিজেকে আর তারপর তো ছেড়েই দিলি…”

-“সবই জানি, তখন মনে হয়েছিল তুই বড্ড বোরিং সারাদিন আমাকে বকিস।”

-“হাঃহাঃহাঃ…”

-“আচ্ছা, আসি রে। বড্ড বিরক্ত করলাম তোকে!”

-“না দাঁড়া, তোকে তোর বাবা মার হাতে তুলে দিতে হবে…”

-“কি? তুই ফাঁসাতে চাস আমায়?”

-“জানিনা… তবে আমার সাথে যখন দেখা, তখন তো আমি যেতে দিতে পারি না। দাঁঁড়া ফোন করি।”

-“একদম না! তোর কাজে যাচ্ছিলি, যা সেখানে…”

-“না,  তা হয় না মেঘু! আমার একটা দায়িত্ব আছে…”

-“মেঘু? ভালবাসিস তাহলে এখনো!”

-“না…”

-“থাক, একটা কথা বলবো?”

-“কি?”

-“বিয়ে করবি আমায়? জানি অনেক ভুল করেছি… সবই বলছি তোকে… কিছু লুকোবো না।”

-“অ্যাঁ? বিয়ে? তোকে?…হা হা হা হা… এখন ফাঁদে পড়ে আমার হাত ধরতে এসেছিস?”

-“হ্যাঁ! তোর মতো পোড়োবাড়ি খেয়াল রাখতো আমার… বাকি সব ঝাঁ-চকচকে নিজের চমক নিয়েই ব্যস্ত!”

-“বুঝলাম… ভাবতে হবে, তোর এই অন্যায় আবদার নিয়ে ভাবতে হবে, বুঝলি?”

-“থাক, বাদ দে। আমি অন্য জায়গায় গিয়ে বসছি…”

-“এই দাঁড়া দাঁড়া… জানিস তোর এই উগ্রতাটাই আমার উইকনেস। আজ‌ও মনটা বড্ড দুর্বল তোর প্রতি…”

– “কি বলব আর রণ তোকে!”

-“করব… কিন্তু শর্ত আছে…”

-“শর্ত? ভালোবাসায় আবার শর্ত  হয় নাকি?”

-“ভালোবাসায় হয় না ঠিকই… কিন্তু বিয়েতে হয়… দেখিস না এত টাকা চাই, এই চাই, সেই চাই… কত দাবি-দাওয়া থাকে।”

-“তা বটে! বল কি শর্ত?”

-“সবই ঠিক আছে… তবে দায়িত্ব নিতে হবে… সবকিছু থেকে পালাই পালাই করলে হবে না, অন্যদের ভাবনা চিন্তা কে গুরুত্ব দিতে হবে… আর হ‍্যাঁ, বন্ধু ঠিক আছে… কিন্তু আমার সাথে বিয়ের পর অন্য কারো সাথে পরকীয়া করতে পারবি না।”

-“বাবারে… ছেলের দেখি বুলি ফুটেছে।”

-“হ্যাঁ, তোর থেকেই শেখা…”

– “আচ্ছা, শর্ত মঞ্জুর।”

-“এরকম করে হবে না, কোর্ট পেপারে এ সব শর্ত লিখে সাইন করবি… যদি পালিয়ে যাস তাহলে আমাকে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে।”

-“হে হে হে, মেয়েরা অ্যালিমনি চায় জানতাম… তুই দেখছি ছেলে হয়ে অ্যালিমনি চাইছিস…”

-“হ্যাঁ !”

-“দাঁড়া, প্রপোজ টা করি, তারপর বাড়িতে সামলানো কিন্তু তোর দায়িত্ব… অবশ্য তোকে চিরকালই আমার বাড়িতে সবাই খুব ভালোবাসতো… ও আমার প্রথম প্রাক্তন তুমি আমার বর্তমান ভবিষ্যতের পাগলামির ভার নিতে চাও?”

-“হ্যাঁ, শুধু আমি নিতে চাই।”

-“চল তাহলে… বাড়িতে ফোন করে বল।”

-“না, তোর বাড়িতেই চল। চিন্তা করছে সবাই।”

-“আর তোর যে হায়দ্রাবাদে যাওয়ার কথা ছিল… কাজ তো!”

-“না, এমন কিছু দরকারি নয়। শুভম সামলে নেবে।”

-“বাবাঃ, এত প্রেম! আচ্ছা যদি আমার বিয়ে হয়ে যেত তুই কি বিয়ে করতিস না আর?”

-”তেমনটা নয়… বুঝলি… মা আমার কুষ্টি বিচার করেছিল… জ্যোতিষী বলেছিল পুরনো প্রেম ফিরে আসার সম্ভাবনা প্রবল। তাই আর বিয়ে-থা নিয়ে ভাবি নি… যদি ফিরে আসিস!”

-“উরিঃ বাবা! তুই তো পুরো সাইকো রে!”

-“দেখ সত্যি হলো তো! ফিরে এলি তো! আচ্ছা তুই যাবার পর আমি তো বদলেও যেতে পারি… মানে ধর যদি এইসব নিয়ে তোর উপর টর্চার করি… যেমন- ‘তুই তো চলে গিয়ে ফিরে এসেছিস… সারা দেশ বিদেশ ঘুরে সুইজারল্যান্ড ছেড়ে সেই পোড়ো বাড়িতেই উঠেছিস’ বলে খোঁটা শোনাই!”

-“ও তাই নাকি! তুই তো আমাকে ভালো করেই চিনিস… তুই যদি অত্যাচার করিস তাহলে আমি তার দশগুণ অত্যাচার তোর ওপর করবো… আর তোকে মুখ বুজে সহ্যও করাবো…”

-“কি ডাকাবুকো ডানপিটে মেয়ে রে বাবা! কি কপাল করে যে এসেছিলাম… নিস্তার নেই… রক্ষে করো রঘুবীর!”

-“আচ্ছা শোন না একটা কথা বলি”

-“বল…”

-“সারা জীবন ডালভাত- এই চলতে হবে? মাঝে মাঝে বিরিয়ানি চলবে না?”

-“কি? সাইন করবি বলেছিস কিন্তু… তবে ডালভাত শুধু নয়, আলুভাতে ও আসবে পরে…”

-“তৃতীয়জন আলু ভাতে! তার তো টাইম লাগবে আসতে… তবে আলু ভাতে আমার ফেভারিট, বুঝলি রণ?”

-“হ‍্যাঁ,  তুই চাইলে আলু ভাজাটাও দিতে পারি… হাহাহা…”

-“পুরো সাইকো তুই রণ, হি হি হি…”

-“তোর থেকে অনেক কম…”

 

 

 

 

[ www.pandulipi.net is a one of a kind web portal where readers can spend few time to read Bengali short  story / Bengali poem / Bengali travelogue / Bengali articles / Bengali series / Bengali Thriller / Bengali Detective story  etc. everything complemented with some beautiful photographs or illustrations etc. therefore not only literature www.pandulipi.net also showcases the wide arena of photography and art. Not only Bengali but  www.pandulipi.net also publishes English short  story / English poem / English travelogue / English articles / English series / English Thriller / English Detective story. Remember we have best Bengali short story and English short story in our kitty.Because we believe every story should have its own photograph as well as every photograph has a story to tell. We at www.pandulipi.net thrive to build a link between them.Viewers can read our about us segment https://pandulipi.net/about-us/ ‎ for more details.One more thing to tell that readers can also get in touch with us to get their literary or photography works get published in www.pandulipi.net to showcase their passion to the world. Contact details can be availed at https://pandulipi.net/contact-us/ ‎ ]

 

 

 

Author: admin_plipi

3 thoughts on “হঠাৎ দেখা

Leave a Reply

Your email address will not be published.